তাজমহল নির্মাণে পেছনের গল্প


displayইউনেস্কো ঘোষিত সাংস্কৃতিক বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্তির পাশাপাশি তাজমহল মোগল স্থাপত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। বেশির ভাগ মানুষ এটাকে আগ্রায় অবস্থিত একটি সমাধি সৌধ হিসেবেই জানে, যা সম্রাট শাহজাহানের স্ত্রী মমতাজের প্রতি ভালোবাসার এক অকৃত্রিম স্মারক। কিন্তু বেশির ভাগ মানুষের জানা নেই, এ তাজমহল একেকটি মাতৃত্বকালীন মৃত্যুর সংবাদও বহন করে। অন্যভাবে বলতে গেলে, ঐতিহাসিক পরিসরে ভারতে মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্য সম্পর্কেও একটি ধারণা দেয় এ ঘটনা। ১৬৩১ সালের ১৭ জুন মমতাজ যখন মারা যান, তার বয়স ছিল মাত্র ৩৯। একের পর এক সন্তান জন্মদানে তার মৃত্যুকালীন জটিলতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে পোর্স্টপার্টাম হেমারেজ তথা শিশুর জন্ম-পরবর্তীকালের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ। মাতৃত্বকালীন মৃত্যুর এ ভয়াবহ বিষয়টিকে চাইলেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। তবে তা এখনো অহরহ ঘটতে দেখা যাচ্ছে ভারতের নানা স্থানে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে অনেক উন্নয়নের ৩৮২ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো ভারতের অনেক নারী মমতাজ মহলের মতো দুর্ভাগ্যজনক মৃত্যুবরণ করছে।

মাতৃত্বকালীন মৃত্যুহার বিচার করতে গেলে ভারতে এর আনুপাতিক মান ২১২, যা এশিয়ার মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ এবং বছরের পর বছর এ অবস্থানের কোনো নড়চড় নেই। এক্ষেত্রে ভারতে মাতৃমৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে পোস্টপার্টাম হেমারেজের ভয়াবহ রক্তক্ষরণ, সেপসিস, অনিরাপদ গর্ভপাত, একলামশিয়া, মাতৃত্বকালীন শ্রম প্রভৃতি। উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে প্রথমাংশে থাকার মতো প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ইউনিট, নিয়মতান্ত্রিক স্বাস্থ্যবিধি, জাতীয় পর্যায়ে রোগ নিরূপণ কর্মসূচি থাকা, পরিবার পরিকল্পনায় সুষ্ঠু উদ্যোগ গ্রহণ সত্ত্বেও ভারতে মাতৃমৃত্যুর হার কমানো যাচ্ছে না। এ দেশটিতে পরিকল্পনাগত সমস্যা তেমন চোখে না পড়লেও অন্তত মাতৃমৃত্যুর বিষয়টিতে এখনো সে মান্ধাতা আমলেই রয়ে গেছে। অন্তত এখানকার প্রসবকালীন মাতৃমৃত্যুর পরিসংখ্যানে দৃষ্টি দিলে যে নারীরা এখনো মমতাজ মহলের ভাগ্যবরণ করছেন, সেটা সত্যিই চিন্তাদায়ক।

১৫৯২ সালের দিকে জন্ম নেয়া মোগল সম্রাট শাহজাহান ১৬২৮-৫৮ সাল পর্যন্ত রাজক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি স্ত্রী আরজুমান্দ বানু বেগম (১৫৯৩-১৬৩১), যিনি মমতাজ মহল হিসেবেই পরিচিত, তার স্মৃতি সংরক্ষণে তৈরি করেন তাজমহল। তরুণ বয়সে আগ্রার রাজকীয় মীনা বাজারে প্রথমবারের দৃষ্টিবিনিময়েই শাহজাহান প্রেমে পড়েন আরজুমান্দের। এর পর ১৬০৭ সালে যখন মমতাজের তথা আরজুমান্দ বানু বেগমের বয়স মাত্র ১৪ বছর, তখনই শাহজাহানের সঙ্গে তার বাগদান সম্পন্ন হয়। তবে প্রিয়তমা মমতাজ মহলকে বিয়ে করতে শাহজাহানের জন্য আরো পাঁচ বছর লেগে যায়। রাজনৈতিক কারণে তিনি তত দিনে আরেকজন পারস্যের রাজকুমারী কন্দরি বেগমের সঙ্গে বিয়ে করেন। এর পর শাহজাহানের বয়স যখন ২১, তখন ১৬১২ সালের ১০ মে শুভদিনে তার সঙ্গে বিয়ে হয় ১৯ বছর বয়সী আরজুমান্দ বানু বেগমের।

আরজুমান্দ নারী হিসেবে ছিলেন অনেক দয়াবান, উদার ও বিনয়ী। তিনি মোগল প্রশাসনিক কাজেও বেশ দক্ষতার সঙ্গে যুক্ত হয়ে শাহজাহানের কাছ থেকে মোহর উজ্জার রাজকীয় সিল মারার ক্ষমতা পেয়েছিলেন। তিনি বিভিন্ন ধরনের সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বিধবাদের বিশেষ ভাতা দিতেন। পাশাপাশি প্রায় সব সামরিক অভিযানে তিনি সঙ্গ দিয়েছেন শাহজাহানকে। এর মধ্যে খান জাহান লোদির বিপক্ষে দাক্ষিণাত্যের ভয়াবহ একটি অভিযানও রয়েছে। এ যুদ্ধ চলাকালীন তিনি তার ১৪তম সন্তান তথা মেয়ে গওহর আরা বেগমের জন্ম দেন। এর পর মাত্র ৩৯ বছর বয়সে ১৭ জুন ১৬৩১-এ আরো অনেক প্রসবকালীন জটিলতার পাশাপাশি পোস্টপার্টাম হেমারেজে মারা যান তিনি। প্রসব বেদনা শুরুর প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর তিনি মারা গিয়েছিলেন। এক্ষেত্রে তার সেবা-শুশ্রূষায় নিয়োজিত প্রিয় লেডি ইন ওয়েটিং শাতি উন নিসা কিংবা প্রিয় চিকিত্সক ওয়াজির খানের চেষ্টার অন্ত ছিল না। শাহজাহান অনেক দক্ষ দাইকে ডেকে এনে মমতাজ মহলের এ সমস্যা থেকে উত্তরণের চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হন। প্রিয়তমা স্ত্রী বিয়োগে সান্ত্বনার অতীত শোকে বিহ্বল সম্রাট শাহজাহান রাষ্ট্রীয় শোক পালনের ঘোষণা প্রদান করেন। এর পর পুরো সাম্রাজ্যে পরবর্তী দুই বছর শোক পালন করা হয়। মমতাজের মৃত্যুতে শোকাচ্ছন্ন শাহজাহান তার স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য এর পর নির্মাণ করেন তাজমহল। ১৭ শতকের এই একই সময়ে সুইডেনের রানী ইলিনোরা তার প্রিয় মানুষগুলোকে হারিয়ে সমান বিপন্ন হয়েছিলেন। তিনি শাহজাহানের মতো না করে অন্য এক উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। তিনি সুইডিশ চিকিত্সকদের ডেকে একটি প্যানেল তৈরি করেছিলেন, যারা স্টকহোমে বসে মাতৃত্বকালীন সময়ে মায়েদের নানা বিষয়ে সতর্ক করার কাজ করতেন। ১৭০৮ সালের দিকে ডাক্তার জোহান ফন হুন একটি মাতৃত্বকালীন সেবাদানের স্কুল শুরু করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে আরজুমান্দের মৃত্যু হয়তো তখন প্রতিরোধ করা যেত, যদি তার রক্তক্ষরণের বিপরীতে নিরাপদ রক্ত দিয়ে ক্ষতিপূরণ করা সম্ভব হতো। ল্যান্সেট থেকে প্রকাশিত একটি জার্নালে দেখা যাচ্ছে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও উচ্চরক্তচাপই উন্নয়নশীল দেশগুলোয় প্রসবকালীন মাতৃমৃত্যুর প্রধান কারণ। ১৯ বছরের দাম্পত্যে আরজুমান্দ শাহজাহানের ঔরসে ১৪ সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন, যাদের সাতজনই মারা যায় শৈশবে। এর মধ্যে চার ছেলে ও তিন মেয়ে শেষ পর্যন্ত টিকে যায়। সন্তানদের আয়ুষ্কাল থেকে শুরু করে নানা আনুষঙ্গিকতা বিচার করলে দেখা যায়, আরজুমান্দ নিঃসন্দেহে মাতৃত্বকালীন মৃত্যুর শিকার। সারণিতে দেখুন আরজুমান্দের ১৪ সন্তানের কে কতকাল বেঁচে ছিল— এখানে দেখা যাবে দুই সন্তানের জন্মদান অন্তর্বর্তী কাল ব্যবধান কতটুকু ছিল।

b130fdfb91bc5cde9a4a15597af3bf2b

অনেকে হয়তো বলবেন, সম্প্রতি বিজ্ঞানের উন্নয়ন প্রসূতিসেবার মান বাড়িয়েছে বহুগুণ, যা মমতাজ মহলের সময়ে সহজলভ্য ছিল না। তবে ঘন ঘন গর্ভধারণ ও অনিরাপদ মাতৃত্বের সেই ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। অনেক মেয়ে এখনো ঠিক ওইভাবেই মারা যাচ্ছেন। কারণ তারা গর্ভধারণের ক্ষেত্রে সতর্ক হয়ে উঠতে পারেননি। তাই আজ থেকে ৩৮২ বছর আগে ঘটা মমতাজ মহলের মৃত্যুর ঘটনা এখনো অনেকটাই প্রাসঙ্গিক রয়ে গেছে। এক্ষেত্রে তিনটি বিষয় সবার আগে আমলে নেয়া প্রয়োজন। তা হচ্ছে বার্থ টু বার্থ ইন্টারভাল, তথা দুবার সন্তান জন্মদানের মধ্যবর্তী সময়কাল। বার্থ টু কনসেপশন ইন্টারভাল, তথা লাইভ বার্থ থেকে পরবর্তী কনসেপশনের অন্তর্বর্তীকাল ও ইন্টারপ্রেগন্যান্সি ইন্টারভাল, যা প্রথম সন্তানের গর্ভধারণ থেকে শুরু করে পরবর্তী সন্তান গর্ভধারণকালের যে ব্যবধান। এক্ষেত্রে মমতাজ মহলের ১৪ সন্তান জন্মদানের প্রতিটি ক্ষেত্রেই দেখা গেছে এক ধরনের বিশেষ বৈপরীত্য, যা তাকে অমন ভয়ানক মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে। এক্ষেত্রে দুটি সন্তানের জন্মদানে সময়কালের তেমন পার্থক্য না থাকায় দেখা দিয়েছে জটিলতা। অন্যদিকে রক্তশূন্যতার মতো সমস্যায় ভুগতে থাকা মমতাজ মহল শেষ পর্যন্ত চলে গেছেন না ফেরার দেশে। ভারতের পরিবেশ হিসাব করলে সেখানকার নারীদের রক্তে হিমোগ্লোবিন ঈপ্সিত মাত্রার চেয়ে কম (৯ গ্রাম/সে.মি.৩) থাকে। তাই হিমোগ্লোবিন কাউন্টে এগিয়ে থাকা পশ্চিম (১২ গ্রাম/সে.মি.৩), তথা অন্য স্থানের চেয়ে এখানে গর্ভধারণের মধ্যবর্তী সময়কাল একটু বেশি হওয়া উচিত। এখানে পোস্টপার্টাম হেমারেজের পাশাপাশি রক্তশূন্যতাকেও প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা যেতে পারে।

চিকিত্সাবিদ্যার নানা বিষয় পর্যালোচনা করে অন্তত কয়েকটি কারণকে চিহ্নিত করা যায় মাতৃত্বকালীন ও প্রসূতি মৃত্যুর ক্ষেত্রে। এর মধ্যে রয়েছে মাতৃত্বকালীন নানা সমস্যা চিহ্নিত করতে না পারা। অন্যদিকে প্রসূতি সেবার অপ্রতুল অবস্থা, মাতৃত্বকালীন ও গর্ভধারণের সময় স্বাস্থ্যগত দুর্বলতাও এখানে দায়ী। অন্যদিকে দ্য থ্রি ডিলে মডেল মমতাজ মহলের ক্ষেত্রে গুরুতর হয়ে উঠেছিল। তিনটি ক্ষেত্রের বিলম্ব এখানে জটিলতাকে অসহনীয় পর্যায়ে নিয়ে যায় বলে মনে করা হয়। এখানে জরুরি প্রসূতি সেবায় উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয়েছে। মাতৃত্বকালীন প্রয়োজনীয় সুবিধা যেমন সময়মতো সেখানে উপস্থিত করা যায়নি, পাশাপাশি প্রসব বেদনা শুরু হয়ে গেলেও উপযুক্ত উদ্যোগ নেয়া সম্ভব হয়নি। জনপদ ও স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজনীয় সুবিধা থেকে দূরত্ব এবং উপযুক্ত নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা না থাকাও এর পেছনে দায়ী। এর বাইরে সময়মতো উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নিতে না পারার ব্যর্থতাও মমতাজের মৃত্যুর জন্য দায়ী। ফার্স্ট লেডি হওয়ায় মমতাজ মহলের মৃত্যুর জন্য এ কারণগুলোর প্রত্যেকটি সরাসরি যুক্ত ছিল, এমনটা বলা কঠিন। তাই তিনটি ধাঁচে এ কারণগুলোকে চিহ্নিত করে বিশ্লেষণ করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে বায়ো মেডিকেল, ফিজিওলজিক্যাল তথা শারীরবৃত্তীয় ও সোসিওলজিক্যাল দিক গুরুত্বের সঙ্গে বিচার্য। ফিজিওলজিক্যাল তথা শারীরবৃত্তীয় দিক আরজুমান্দের মৃত্যুর কারণ পোস্টপার্টাম হেমারেজ, রক্তশূন্যতা এবং একের পর এক শিশুর জন্মদানে কোনো ধরনের বার্থ স্কেসিংয়ের তোয়াক্কা না করা। এক্ষেত্রে সাইকোলজিক্যাল কারণ হিসেবে অতিরিক্ত ধকল ও বিষণ্নতাকে দায়ী করা যায়। একজন খুব সহজেই তেমন এক গর্ভবর্তী নারীর যন্ত্রণার কথা চিন্তা করে শিউরে উঠবেন, যিনি দিনের পর দিন গর্ভাবস্থায় অবস্থান করেছেন যুদ্ধক্ষেত্রে; যেখানে প্রতিদিনের সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত হয় তার স্বামী কিংবা কোনো প্রিয়জনকে হারানোর শঙ্কা নিয়ে। এক্ষেত্রে তৃতীয় কারণটি নিঃসন্দেহে সামাজিক ও ধর্মীয়, যেখানে জন্মনিয়ন্ত্রণ কিংবা পরিকল্পিত গর্ভধারণের কথা তিনি চিন্তা করতে পারেননি। এগুলোর পাশাপাশি ওপরের অনেক কারণ সন্নিবিষ্ট হয়ে পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তোলে, যা একটা পর্যায়ে মমতাজকে মৃত্যুমুখে ঠেলে দিয়েছিল।

সমকালীন বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, তখনকার দিনে ইউরোপ তথা ইংল্যান্ডে সন্তান জন্মদানের মতো ভারতবর্ষে সন্তান জন্মদান অতটা কঠিন ছিল না। সম্রাট জাহাঙ্গীরের আত্মজীবনী থেকে জানা গেছে, মোগল আমলেই পাবলিক হসপিটাল প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। তিনি সাম্রাজ্যের উদ্যোগে বড় বড় শহরে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছেন। যদিও সেখানে স্থানীয় পর্যায়ের চিকিত্সক দিয়ে যে সেবা দেয়া হতো, তা প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্ত অপ্রতুল ছিল। তবে চেষ্টা হিসেবে এটাকে প্রশংসনীয় বলা যেতেই পারে। তখনকার শল্যবিদ্যার ভয়াবহ দিক নিয়ে লিখে গেছেন এলফিনস্টোন। তার হিসাবে, যাচ্ছেতাই ওষুধ সেবনের পাশাপাশি সামান্য কারণে কাটাছেঁড়া হয়ে গিয়েছিল বেশ স্বাভাবিক ঘটনা, যেখানে অ্যানাটমিতে চিকিত্সকদের জ্ঞান ছিল না বললেই চলে। তাই তারা পাথুরে চিকিত্সার জন্য কিডনি কাটা থেকে শুরু করে ক্যাটার্যাক্টের চিকিত্সায় চোখে পর্যন্ত ছুরি চালিয়েছে। একইভাবে ডিম্বাশয় কেটে ভ্রূণ বের করে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে। সামান্য কারণে অণ্ডকোষ কেটে ফেলার ১২৭টি ঘটনা তিনি লিখে গেছেন। এমন নানা জটিলতায় ভুক্তভোগী পুরুষ ও নারীরা অসহনীয় যন্ত্রণায় মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছেন। অতিরিক্ত সন্তান জন্মদানের একপর্যায়ে স্বয়ং ফার্স্ট লেডি মমতাজ মহলও রক্ষা পাননি অকালমৃত্যুর হাত থেকে। অন্তত এদিক থেকে চিন্তা করতে গেলে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, মোগল স্থাপত্যকলার অনন্য স্মারক তাজমহল একদিক থেকে যেমন নান্দনিকতায় সমুজ্জ্বল, অন্যদিক থেকে চিন্তা করতে গেলে এটি অপরিকল্পিত গর্ভধারণে মমতাজ মহলের অকালমৃত্যুর বিবমিষায় ক্লেদাক্ত ও বিষাক্ত।
উইম্যান হেলথ জার্নালে প্রকাশিত অনন্ত কুমারের গবেষণা প্রবন্ধ অবলম্বনে

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s