সিরিয়া মিসরের পরিণতী না হোক বাংলাদেশের


gettyimages-488734556সিরিয়া, লেবানন, মিসর কিংবা ইরাকম সবখানেই অনেক ভিন্ন মতের মানুষ ছিলো। অবাক করার বিষয় হচ্ছে আমাদের দেশের মত অবস্থা ছিলো তাদের। একদিকে বিশ্বব্যাংক তাদের নিয়ে অমিত সম্ভাবনা দেখতো। পশ্চিমের পোষ্য শুশীল প্রগতিশীলরা সেখানে শিলা কি জাওয়ানী স্টাইলে গণতন্ত্রের নামে জবানি খুলতে চেয়েছিলেন। ব্যাস তারা ডেকে বসেন তাদের বিলিতি-মার্কিনি আব্বাজানদের। এদিকে সেখানকার ধর্মান্ধ বেকুবেরা সেখানে চাইতো নিজেদের মত একটা স্বর্গরাজ্য। সেনাশাসিত সরকার চাইতো ক্ষমতা দীর্ঘজীবী হোক।

ভাগ্য অদ্ভুত লীলালেখা খেললো তাদের সঙ্গে। আস্তিক, নাস্তিক, শুশীল, প্রগতিশীল কিংবা ধর্মভীরু পশ্চৎপদ সবাই তাদের

পশ্চাদ্দেশ পশ্চিমী বাপেদের কাছে বর্গা দিয়ে দিলো। ব্যস নিজেদের মধ্যে যারা দ্বন্দ্ব লাগিয়ে মজা পায় তারা এবার সিরিয়ালি সডোমাইজড হতে শুরু করলো। একজনের পায়ু বিদ্ধস্ত হয় তো অন্যজন চিক্কুর দিয়া ওঠে. হিপ হিপ হিপ হুররে ! ওহ মাই গড। হিজ ফাকিং অ্যাশহোল গনা টোটালি ডেস্ট্রয়েড। শেষ পর্যন্ত দেখা যায় সবাই একই পরিস্থিতির শিকার হয়। প্রথম দিকে শুরু হওয়া অট্টহাসি আস্তে মিলিয়ে যায়। তারপর গুলি আর বোমার শব্দে চিৎকার করে কান্নার শব্দও নিতান্ত ঠুনকো মনে হতে তাকে। আর বরাবরের মতই নাকে তেল দিয়ে বেশ আরামের সঙ্গেই আরেকদফা ঘুম দিয়ে দেয় বিশ্ববিবেক নামের অদ্ভুত জন্তুটি।

 আল জাজিরার করা ডকুমেন্টারিটি দেখতে পারেন
শুরুতে তাদের কট্টরপন্থীরা মেয়েদের বস্তায় ভরে ঘরে বাইরে পালতে চাইতো। তথাকথিত শুশীল প্রগতিশীলরা চাইতো বিচ থেকে ঘরের বারান্দা কিংবা রাস্তা সবখানে মেয়েরা ঘুরোক বিকিনি পরে, বেশি শীত লাগলে বড়জোর তারা মিনিস্কার্ট পরতে পারবে। নিয়তির পরিহাস তাদের কারো স্বপ্ন সত্যি হয়নি। বরং তাদের ঘরের বা বোনরা সবাই অনিচ্ছা সত্তেও মা হয়ে গেছে। ইসলামপন্থীদের মধ্যাঙ্গুলি দেখিয়ে বিকিনি পরা মেয়েরা রাস্তা দিয়ে হেটে যাবে, আর দেখে দেখে সবাই লালা ঝরাবে এমন স্বপ্নে বিভোর ব্যক্তিদেরও মাথায় হাত। কারণ তাদের মেয়েরাও এখন গর্ভবর্তী, কিন্তু কেউ বলতে পারবে না অনাগত সন্তানের ইঙ্গো-মার্কিন বাপেদের নাম।

রাশিয়ার মদদে বিদ্রোহীদের হামলা
বিগত কয়েক বছরে এসব দেখে সত্যি খুব ভয় হয়। জঙ্গী আতঙ্ক, বেশি প্রগতিশীলদের ঘ্যান ঘ্যান প্যান প্যান। ধর্মদ্রোহীদের হারে রেরর ভাব করে তেড়ে আসার প্রবণতা কিংবা চাপাতি হাতে তথাকথিত ধর্মাশ্রয়ী সন্ত্রাসবাদীদের দাপট ভয়টা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। এক্ষেত্রে এরা কেউ কি বুঝতে পারছে না যে এই চুলকানির পরিণতিটা কোথায় নিয়ে আমাদের দাঁড় করাতে পারে।

ফ্রান্সও নিয়েছে হামলার সুযোগ
তুমি বাবা অনেক বড় ধার্মিক, নিজের কাজ নিজে করো গিয়া। তুমি স্রষ্টায় বিশ্বাস করো না, ভাবছো সব ধার্মিক অকাট মূর্খ আব্বাজান ডারউইনই সহিহ। কোনো সমস্যা নাই, তুমি দুষ্ট যুক্তরাষ্ট্র খুইলা নিজের রুমে বইসা মেশিনের শক্তিমত্তা পরীক্ষা করো। তোমার ক্যান ফেসবুকে বইসা ছাই-ভষ্ম লিখে দেশে গ্যাঞ্জাম বাধাতে হবে? তুমি বিশাল ধার্মিক, জোব্বা ছাড়া পথ চলো না কিন্তু চান্স পাইলেই টেরাচোখে রাস্তার মেয়ে দেখা কিংবা ব্যাংকের সুদ খাইতে বাধে না। কিন্তু তোমার ঈমান ফাল দিয়া ওঠে যখন ফেসবুকে কেউ কিছু লিখে। ব্যস ধর্ম উদ্ধারে নাইমা পড়ো তুমি চা-পাতি রামদা হাতে।
সত্যিকার অর্থে মার্ক জুকারবার্গ, স্টিভ জবস ইনারাও নাস্তিক ছিলেন এমনকি বিখ্যাত সায়েন্স ফিকশন রচয়িতা আইজাক আজিমভ আর বরেন্য পদার্থবিদ স্টিফেন হকিংও তাদের দলে পড়েন। কই তাদের নাস্তিক্যবাদ প্রমাণের জন্য কখনও ফেসবুকে গালাগাল করতে হয়নি তো। আর এদিকে বাংলাদেশের অকাটমূর্খ ধর্মব্যবসায়ী আর নাস্তিক্যবাদ ব্যবসায়ীরা লড়ে যাচ্ছেন স্ব স্ব লড়াই, ভিকটিম হচ্ছে সাধারণ মানুষ। আমার ধারণা হুজুরদের মূর্খতার বেনিফিট নিয়েই হুমায়ুন আজাদের মত একজন একরোখা এবং তসলিমার মত স্থুলবুদ্ধির মহিলা এদেশে বুদ্ধিজীবী।

দোস্তানা মুভির আইটেম সং
স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়ার সঙ্গে না থাকা বোকা ছেলেমেয়ে গুলো জীবনের লড়াইয়ে ব্যর্থ হয়ে ধর্না দিতে শুরু করে জার্মান দূতাবাসের দোরগোড়ায়। তারপর Dostana (2008) মুভি দেখে জানতে পেরেছে একটি ভিন্নধর্মী যৌনতার বাইরের দেশে খুব দাম। ব্যস ধর্ম নিয়ে কুৎসিৎ গালাগালের পাশাপাশি চলতে থাকে ভ্রষ্টাচারও। দেখা যায় যারা আদতে মনে মনে ধর্মভীরু তাদেরও কেউ কেউ গালি ঝাড়তে থাকে ইচ্ছেমত।
পরে একদিন অ্যাসাইলাম জোটার পর হয়ত তাদেরই কেউ স্ট্যাটাস দেবে। বেশতো…আলহামদুলিল্লাহ জার্মান যাচ্ছি। ভগবান রক্ষা করেছেন মার্কিন ভিসাটা পেয়েই গেলাম। কিন্তু এদের এই দ্বৈত ধান্দাবাজির বলি হতে যাচ্ছে আমাদের স্বদেশ; প্রিয় বাংলাদেশ। এদিকে কি কারো খেয়াল আছে। যাই হোক আমরা কেউ চাইবো না আমাদের দেশ সিরিয়া মিসর হোক। আমরা কেউ চাইনা আমাদের দেশের মোড়ে মোড়ে পাকিস্তানের মত বোমা ফুটুক। তাই সময় হয়েছে এখনই সতর্ক হওয়ার।
আমরা ধর্মের নামে, নাস্তিক্যবাদের নামে কিংবা তথাকথিত গণতন্ত্রের নামে বহিঃশক্তির কাছে আমাদের দেশকে বিক্রি করতে পারি না। আমাদের দেশের উপর বিষনিঃশ্বাস ফেলুক কোনো সাম্রাজ্যবাদী শকুন এটা কাম্য নয়। আর এর জন্য সবার আগে চাই সহনশীলতা, সহমর্মিতা আর দৃঢ় ভাতৃত্বের বন্ধন। যাই হোক অন্তত বিভাজনের বিষবৃক্ষের গোড়ায় সারপানি ঢালা অন্তত এখনই বন্ধ করতে হবে। নচেৎ এগুলোই আমাদের নিয়ে দাঁড় করাবে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে। যেখানে শিরদাঁড়া দিয়ে শীতল স্রোত এখনি নামতে শুরু করেছে আমাদের দেশের উপর কবে না জানি সন্ত্রাসবাদবিরোধী যুদ্ধের প্রেতাত্মা সওয়ার হয়ে বসে?

 

Advertisements

One thought on “সিরিয়া মিসরের পরিণতী না হোক বাংলাদেশের”

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s