Category Archives: কবিতা

গানের কবি নজরুল

Kazi_nazrul_islamবিদ্রোহ, প্রেম, বিরহ আর তারুণ্যের কবি নজরুল বাংলা গানের ক্ষেত্রে জনপ্রিয় এক নাম। বাংলা সঙ্গীতে সমৃদ্ধির প্রশ্নে এবং সাম্যবাদী সত্তা হিসেবে তিনি আমাদের গানের কবি, বিচরণক্ষেত্রে পরিধি হিসেব করলে তিনি আমাদের প্রাণের কবি। কবির রচিত প্রায় তিন হাজার গানথেকে বিদ্রোহের মাঝে যে ভাঙার আবেগ, অস্বীকৃতির ব্যকুলতা, শেকল ছেঁড়ার প্রবনতা, বাঁধনহারা উদ্যম আর সুরের পৃথিবীর অবস্থান তাকে খুব সহজেই খুঁজে নেয়া যায়। নজরুলের এই পৃথিবী হচ্ছে ছন্দের পৃথিবী, প্রেমের পৃথিবী আর সাম্যবাদী সুরে মানুষের ঐক্যের পৃথিবী। বলতে গেলে নজরুল রচিত সংগীতগুলো বাংলা গানকে পরিপূর্ণতা দিয়েছে। নজরুলের বৈচিত্র্যময় সুর-তাল-লয় ও বিষয়বস্তুর গানের পটভূমি হিসেবে কাজ করেছে এক মহান ঐক্যের ধ্যান এবং গঠনমূলক স্বপ্ন। প্রচলিত শোষণ ভিত্তিক সমাজের ভগ্ন-জীর্ণ-অবক্ষয় জর্জরিত কাঠামোটি ভেঙে ফেলে নতুন কিছু গড়ে তোলার দুর্নিবার উদ্দীপনা রয়েছে নজরুলের গানে। Continue reading গানের কবি নজরুল

Advertisements

কোন কোন বৃষ্টি কাউকে ভেজায় না (বুক রিভিউ কিংবা ফাউ আলোচনা)

1939763_10152626392170410_1795227864_oঝুম বৃষ্টিতে ভিজে একাকার একটি সদ্য কৈশোর পেরুনো ছেলে স্কুটি চালিয়ে উত্তরা থেকে মিরপুর ফিরছিলো। ঘটনাটি সাজাতে গেলে বলতে হয় আজ থেকে বছর চারেক আগের কথা। শ্যাওড়াপাড়ার মোড়ে কোনো শ্যাওড়াগাছ কিংবা তাতে ভূত পেত্নীর আনাগোণা না থাকলেও সেখানে ছিলো এক হাঁটু পানি। উপর থেকে বৃষ্টির ধারা আর নিচের জমে থাকা এঁদো ড্রেনের পানি স্কুটির চাকায় টংকার তুলে ভিজিয়ে দিচ্ছিলো চারিপাশ। তবুও সেই মানুষটির মনে কিসের যেনো শূন্যতা, হৃদয় গহীনে মরুর শুষ্কতা যাকে স্পর্শ করেনি শ্রাবণের হিমশীতল ধারা। ভাবনার শুরুটা সেখানেই।

মনের অতৃপ্তি, চাওয়া পাওয়ার মাঝে বিস্তর ফারাক, প্রিয়জনের বিশ্বাসঘাতকার চরম নজিরের পাশাপাশি আটপৌরে জীবনের নানা দিক টংকার তুলতো মনের তানপুরায়। স্মৃতির আয়না থেকে টুপ করে ভেসে উঠতো Continue reading কোন কোন বৃষ্টি কাউকে ভেজায় না (বুক রিভিউ কিংবা ফাউ আলোচনা)

এবং অতঃপর ইনসমনিয়া

০১.
স্মৃতির আকাশে স্বপ্নের রঙিন পাখায় ভর করে কতগুলো পায়রা ওড়ে খেয়ালি আকাশ তার হিসেব রাখেনা ঠিক যেমনি বর্ষান্তে প্রখর রোদ্দুর বারিপাতের শেষ বিন্দুটি পর্যন্ত শুষে নেয়। আমার এক একটি অসহ্য যন্ত্রণার রাত্রিশেষে ক’ফোঁটা অশ্রুগড়িয়ে পড়লো কিংবা ঘাসের ডগায় কতবিন্দু শিশির মুক্তোর মতো জ্বলজ্বল করে বয়ে আনলো সুন্দর সকাল তারও কোনো হিসেব থাকেনা স্যাটেস্টিক্সে। আসলে ভাবনাগুলোর বাস্তব কোনো প্রকরণ নেই বলেই কাব্যভাষায় অহর্নিশ ভাষা খুঁজে ফেরে নিরন্তর কিছু দু:খবিলাস। কোন কোন বৃষ্টি কাকে ভেজালো সেটা মূখ্য নয় একসময় আকাশের লেহন তৃষ্ণা জুড়াতে তাকে উড়ে যেতেই হয়। তবুও ঐ সাময়িক প্রশান্তি, টিনের চালে টুংটাং শব্দ, রেলিং থেকে বাড়িয়ে দেয়া হাতে কিছুটা স্নিগ্ধ আবেশ খেয়ালি মনকে দেয় চিন্তার খায়েশ। এমনি কিছু অসময়ের বৃষ্টি, কিছু রাত্রির শেষ শিশির আমাদের স্মৃতির কড়িকাঠে বেশ শক্তপোক্ত আঁচড়ও কেটে যায়। সেগুলোর দগদগে ক্ষত কাউকে আজীবন পোড়ায়, কারো সামনে ধরা দেয় নিছক কাব্য সাধনার অনুসঙ্গ হয়ে।
০২.
ঐ দূর কাশবনে হিমশীতল কষ্টে টুপ টাপ করে যে শিশিরগুলো ঝরে তার শব্দ শুনতে উতলা হয়ে খুলে রাখি আমার মন খারাপের জানালা। অপেক্ষার নৈনিতালে চম্পক সারিন্দা বাজিয়ে তুমি এসেছিলে সেদিন আমার আলিশায়, ঠিক এতটুকু প্রত্যাশার মিঠে রোদ্দুর নিয়ে। বাকিটুকু তোমার গল্প যেখানে অল্প কিছু আবেগ, একটু মায়ায় স্বস্তির পরশ। একান্ত ভালোলাগার ঐ ইতিকথা আজো বাজিয়ে চলেছে মনের সারিন্দা। লিখতে লিখতে শেষ হলো কবিতার খাতা, ফুরিয়ে গেলো কলমের কালি তারপর ধরেছি কম্পিউটার। তবুও শেষ হয়নি মহাকাব্যের সেই পঙ্কতিগুলো। শব্দের পর শব্দে বোনা সে মায়াজাল, লাইনের পর লাইনে সাজানো স্বপ্নময় ইন্দ্রজাল, একাট্টা হয়েছে সবগুলো, শুধু তোমাকে নিয়েই এ কথোকথা, পুরোটা নির্ভেজাল।
০৩.
কুয়াশা ঢাকা মাঝরাতের কিছু মোহিনী ইশারাকে হুট করে অস্বীকার করতে পারেনা এই কংক্রিটের জঞ্জাল সবার প্রিয় শহর ঢাকা। শীতের সুনশান নীরব রাজপথ কানে কানে কি যে বলতে চায়, বুঝিনা তার কিছুই !!! ঢিমে তালে জ্বলতে থাকা কিছু সড়কবাতি আর তার ঠাণ্ডায় জমে যাওয়া খাম্বাগুলো রাতজাগা পাখির ডানা ঝাপটানোর সাথে মিতালি করে সুর তোলে মনের পিয়ানোতে। উদাস হয় মন, হারিয়ে যাই আমার আমিত্ব থেকে। মাঝে মাঝে শীতের কাঁপুনি তোলা রাতেও শুধু এককাপ বেশি চিনি দেয়া কফি তারপর জানালার গরাদে মাথা ঠেকিয়ে পার করে দিই অনেকটা সময়। মনে বয়ে যায় চিন্তার ঝড়, সেগুলোকেই ঢেলে সাজাই কিবোর্ড ঠুকে। ব্যাস কত সুন্দর সুন্দর কিছু লেখা দাঁড়িয়ে যায় নিজের অজান্তে।

শহীদুল জহিরের দিকে দেখি

শহীদুর জহির (১৯৫৩-২০০৮)

১১ সেপ্টেম্বর অকালপ্রয়াত কথাসাহিত্যিক শহীদুল জহিরের জন্মদিন। মাত্র ৫৪ বছরের জীবনেই তিনি সৃষ্টি করেছেন বাংলা সাহিত্যের স্মরণীয় বেশ কিছু মুহূর্ত তার উপন্যাসে, তার গল্পে। বাংলা ভাষার এই কীর্তিমান লেখকের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি। বাঙলার পাঠশালা’র আয়োজনে ২১ অগাস্ট ২০১৩ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার মিলনায়তনে প্রয়াত কথাসাহিত্যিক শহীদুল জহিরকে নিয়ে একটি বক্তৃতা দিয়েছিলেন শাহাদুজ্জামান। সেই বক্তৃতার উপর ভিত্তি করেই তৈরি হয়েছে বর্তমান এই রচনাটি।  দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশে প্রকাশিত রচনাটি সরাসরি কপি পেস্ট করে সংরক্ষণ করে রাখলাম আগামীর জন্য। বাংলার মননশীল পাঠকের হৃদয়ে আজীবন বেঁচে থাকুক শহীদুল জহিরের রচনাগুলো এই প্রত্যাশা আমাদের সকলের। Continue reading শহীদুল জহিরের দিকে দেখি

অব্যক্ত অনুভূতি

এই অব্যক্ত অনুভূতি

স্মৃতির দেয়াল চিরে

বিস্মৃতির অতল গহ্বরে

হারিয়ে যেতে চলেছে যখন।

আজগুবি চিন্তায় নিবিষ্ট

হতে বাধ্য হয় যখন

কারো ফেরারি মন

হৃদয়ের অনবরত উল্লম্ফন

থামিয়ে দিতে পারে Continue reading অব্যক্ত অনুভূতি

বিদায় বলেছি তোমায়

কে তুমি তা জানতে চাইনি,
ডায়েরির পাতা উল্টে দেখাও হয়নি
হয়তো সে সময়ই পাইনি,
ধুর!! প্রয়োজনটাও বোধ করিনি ।।
তবুও অজান্তেই ভালো লেগেছিল তোমায়,
হয়তো কোনো এক ঝড়ো হাওয়ায়,
কোনো এক সাঁঝে, কিংবা বিকেল বেলায়,
কিংবা তপ্ত দুপুরে, শীতল বকুল তলায়।।
বিবাগী বাতাসে উড়তে থাকা তোমার শাড়ির আঁচল,
চোখের কোণে চিকচিক করতে থাকা জল,
ঘোর বিপদে হৃদয় তোমার যখন করেছে টলমল,
সত্যি তখন তোমায় ভেবেছি অনেক দুর্বল।।
শিশির ভেজা ঐ সকালে হয়তো তোমারই ছিল ভুল,
যত্ন করে কুড়িয়েছিলে ধুলোয় লুটানো একরাশ বকুল, Continue reading বিদায় বলেছি তোমায়