Category Archives: গল্প

সেদিন কোনও একদিন…

wallpaper-love-love-31307651-1280-960তারা কথা রাখেনা। কেউ কেউ হয়ত রাখে। নিজের সম্পূর্ণ বিশ্বাস তাদের কারো হাতে তুলে দেয়ার আবেগটা জন্মায় নি আমার মাঝে। ইচ্ছে করে তাই আমার এক একটি নির্ঘুম রাতের দায় সব নষ্ট ভালোবাসার শিকলমুক্ত রেখেছি। বিমুগ্ধতার পরশ বুলিয়ে যাওয়া নিশ্চুপ অন্ধকার কিংবা কৃষ্ণপক্ষের ঘোলাটে চাঁদের পূর্ণ অধিকারটাও তেমনি Continue reading সেদিন কোনও একদিন…

Advertisements

শহীদুল জহিরের দিকে দেখি

শহীদুর জহির (১৯৫৩-২০০৮)

১১ সেপ্টেম্বর অকালপ্রয়াত কথাসাহিত্যিক শহীদুল জহিরের জন্মদিন। মাত্র ৫৪ বছরের জীবনেই তিনি সৃষ্টি করেছেন বাংলা সাহিত্যের স্মরণীয় বেশ কিছু মুহূর্ত তার উপন্যাসে, তার গল্পে। বাংলা ভাষার এই কীর্তিমান লেখকের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি। বাঙলার পাঠশালা’র আয়োজনে ২১ অগাস্ট ২০১৩ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার মিলনায়তনে প্রয়াত কথাসাহিত্যিক শহীদুল জহিরকে নিয়ে একটি বক্তৃতা দিয়েছিলেন শাহাদুজ্জামান। সেই বক্তৃতার উপর ভিত্তি করেই তৈরি হয়েছে বর্তমান এই রচনাটি।  দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশে প্রকাশিত রচনাটি সরাসরি কপি পেস্ট করে সংরক্ষণ করে রাখলাম আগামীর জন্য। বাংলার মননশীল পাঠকের হৃদয়ে আজীবন বেঁচে থাকুক শহীদুল জহিরের রচনাগুলো এই প্রত্যাশা আমাদের সকলের। Continue reading শহীদুল জহিরের দিকে দেখি

মনে হয় মাঠ হয়ে যাই যেখানে ঝরে স্বস্তির বৃষ্টি

এক.
বৃষ্টিগুলো আমার কাছে কেমন যেনো বেতাল মনে হচ্ছিল।
সকাল থেকেই নতুন ধানের তুষ ছড়ানোর মতো ঝুর ঝুর করে ঝরেই চলেছে,
চৈত্রের ঋণ সততায় সাথে পূরণ করতে এতটুকু বিরাম নাই।
জরুরী কাজে চিড়িয়াখানার কাছাকাছি গেছিলাম এবং অবশ্যই ছাতা ছাড়া।
বৃষ্টিতে ভিজে অনেকটাই বটগাছের ঝুরির মতো মুখের উপর এসে পড়ছে চুলগুলো। ফুটপাত ধরে এগুচ্ছি। একটা সেলুন বেখেয়ালে আয়নায় চোখ যায়। মনের অজান্তেই গালি দিয়ে বসি নিজেকে -শ্লা উজবুক। Continue reading মনে হয় মাঠ হয়ে যাই যেখানে ঝরে স্বস্তির বৃষ্টি

একটি প্রত্নতাত্ত্বিক দু:স্বপ্ন

nz169এক. একটা ইন্টারভিউ দিয়ে বিকেলে বাসায় ফিরছিলাম। আশেপাশে অনেকগুলো নির্মাণাধীন ভবন। হয়তো এগুলোর কোনো একটার পাশ দিয়ে আসার সময় উপর থেকে টুপ করে কি জানি মাথায় পড়লো। আস্তে আস্তে যন্তণাদায়ক দুনিয়া স্বর্গের মতো মনে হচ্ছিল। বেখেয়ালে পথ চলতে গিয়ে কখন উপর থেকে মাথায় ইটের টুকরোটা পড়লো বুঝতেই পারিনি। আস্তে আস্তে দৃষ্টি থেকে পর্দা সরে যাচ্ছে… হাজার বছরের সভ্যতা উদ্ধারে ব্যস্ত হয়ে পড়েছি। লটকন-জাম-আনারস আর গাবগাছে ভরপুর উয়ারী বটেশ্বর। নিভৃত গ্রাম রাইঙ্গারটেক। কাকডাকা ভোরে উঠতে হচ্ছে, কিন্তু কোনো কাউয়ার দেখা পাইনা। একটু পরেই প্রফেসরের তাড়া। মালসামানদি প্যাক কৈরা এযুগের ফেরাউন মুক্তার হাজির। তার সেই বিখ্যাত রিংটন মোরগের ডাক. কক কক কক.। স্যার বেটাকে কত ধমকেছেন। কিন্তু এরশাদ কাকার মতো ধৈরাই রাখছে এই যুগের সরকার, মোরগ লোকের দরকার, আর আমার চাই রিংটোনে মোরগ। বেকুবটা চিল্লছে, ভাইয়ারা উঠেন স্যার বকা দিবে। আমরাও তড়িঘড়ি করে উঠলাম। দৌড়ে ঢুকলাম টিনের ঝুপড়ি টাইপ প্যালা দেয়া বাথরুমে। দুর্গন্ধে বমি ঠেলে আসে, তবুও মনে হচ্ছে ভেতরে ঢুকে একপ্রস্থ ঘুমিয়ে নেই। বাইরে থেকে ধুম করে লাত্থি পড়ে দরাজায়। বাইরে থেকে মিরাজ চিল্লাছে ঐ … বাইরা। বের হয়ে ফ্রেশ হই, তারপর নাস্তার টেবিল. যথরীতি সবাই নড়েচড়ে বসার আগেই আমার হাত ধোয়ার শেষ। মিজানুর ভাই রেগে গিয়ে বলে ঐ খাওয়াটা ঠিকঠাক খা। একটু ভেংচি টাইপ হাসি দিয়ে বেরিয়ে আসি পাইচারি করতে থাকি বাইরে। Continue reading একটি প্রত্নতাত্ত্বিক দু:স্বপ্ন

আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া


আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়ার জন্ম ১৯১৮ সালের ১ অক্টোবর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। প্রাচীন পুঁথি সংগ্রহ, গবেষণা এবং প্রত্নসম্পদ অনুসন্ধান, আবিষ্কার ও সংগঠনে তিনি তুলনারহিত। এক শ ছুঁই ছুঁই বয়সেও সদা কর্মব্যস্ত।
মাসউদ আহমাদ: আপনি তো ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র ছিলেন এবং রেজাল্টও ভালো ছিল, প্রত্নতত্ত্বের মতো নীরস বিষয়ে উৎসাহী হলেন কীভাবে?
আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া: আমাদের পরিবারে পুঁথিচর্চার একটা পরিবেশ ছিল। শৈশবে দেখেছি, বাড়িতে পুঁথির বড় সংগ্রহ। আমার বাবা ছিলেন ফারসি ভাষার পণ্ডিত, তিনি পুঁথির পাঠক ও সংগ্রাহক ছিলেন। বই পড়ার প্রতি আগ্রহ ছোটবেলা থেকেই তৈরি হয়, পারিবারিক ঐতিহ্যের কারণেই বলতে পারেন। ঢাকা কলেজে পড়ার সময় প্রত্নতত্ত্ব ও ইতিহাস বিষয়ে আগ্রহ তৈরি হয় আমার। এরপর কর্মজীবনের প্রথম থেকেই আমি প্রত্নসম্পদ বিষয়ে জরিপ ও নোট নেওয়া শুরু করি। ১৯৪৬ সালে প্রভাষক হিসেবে যোগ দিই বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজে। সেই সময় নৃতত্ত্বের ওপর কাজ করছিলাম আমি। তখন Continue reading আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া

পৈশাচিক নেক্রোফিলিয়া বা শবাসক্তি (পর্ব-১)

প্SPN_Necrophiliaরত্নতত্ত্বে অধ্যয়ন করতে গিয়ে আমরা অতীত রাজা রাজড়াদের নানা ধরণের অবাক করার মতো খেয়াল খুশির পরিচয় পাই। এর মধ্যে অদ্ভুদ কিছু বিষয় যেমন মানুষের চিত্তকে বিচলিত করে তেমনি কিছু বিষয় আছে যেগুলো শুনলে ঘৃণায় মুখ বিকৃত করতে হয়। আমার একটা অভ্যাস আছে অবসর সময়টুকু বেশিরভাগই কাটাই হয় বই পড়ে কিংবা নেটে ব্রাউজিং করে যেখানে প্রত্নতত্ত্ব আর ইতিহাসই কেন্দ্রে থাকে। আর প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই এটা আমাকে এতটাই টানে যে আমার লেখাপড়ার গণ্ডিটা অনেকটা প্রত্নতত্বের মধ্যেই কিভাবে যেন আটকে গেছে। জা. বি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে তখন তৃতীয় বর্ষের মাঝামাঝি পড়ি এমনটা হবে। একটি সংবাদপত্রে ফিচার লেখার প্রস্তাব পেয়ে মিশরীয় মমির কিছু ছবি দেখছিলাম। ফিচার লেখার তুলনায় আমার অনুসন্ধিৎসু চোখ নিবদ্ধ হয় একটি বিশেষ বিষয়ের প্রতি। তখন ঐ প্রবন্ধ শেষ করার কাজ অনেক পিছিয়ে যায়। আমি ভাবতে থাকি অন্য বিষয় নিয়ে। Continue reading পৈশাচিক নেক্রোফিলিয়া বা শবাসক্তি (পর্ব-১)

হুমায়ুন আহমেদের বই ডাউনলোড

humayun_5সবাইকে অবাক করে না ফেরার দেশে চলে গেছেন হুমায়ুন আহমেদ। কিন্তু রেখে গেছেন অগণিত স্মৃতি। রেখে গেছেন অগণিত বই। এই বইগুলো শতাব্দী ধরে স্মরণ করাবে প্রিয় লেখককে। একজন রবীন্দ্রনাথ, নজরুল কিংবা জীবনানন্দ বাংলা সাহিত্যকে কি দিয়ে গেছেন সেটা দেখার সুযোগ হয়নি। বিশেষ করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে অতিরিক্ত লাফালাফি আর শুশীলদের আতলামি যারপরনাই বিরক্ত করেছে আমায়। সে দিক থেকে বিচার করলে আমার হিসেবে বাংলাদেশী সাহিত্যিক হিসেবে হুমায়ুন আহমেদের স্থান সবার উপরে। বিশেষ করে সংখ্যাতাত্ত্বিক দিকে তিনি ছাড়িয়ে গেছেন সবাইকে। এক্ষেত্রে তিনি মানে,গুণে যোগ্যতা আর নৈপূন্যে সবার থেকে অনন্য।

বইগুলোর নামসহ লিংক..

 ১. একটি সাইকেল এবং কয়েকটি ডাহুক পাখি
২. বাদশা নামদার
৩. হিমু এবং একটি রাশিয়ান পরী
৪. পুফি
৫. ম্যাজিক মুন্সী
৬. বল পয়েন্ট
৭. কাঠ পেন্সিল

Continue reading হুমায়ুন আহমেদের বই ডাউনলোড

ভালবাসার ধূসর রঙ

গভীর রাত। রথি শুয়ে আছে। তার চোখে ঘুম নেই। ইদানিং প্রায়ই তার এমন হয়। ঘুম আসেনা। বিছনায় মরার মত শুয়ে থাকতে ভারী কষ্ট হয় তার। পাশের রুমে বাসার সবাই ভোস ভোস করে ঘুমায়। হটাৎ রথির খুব মন খারাপ হয়। শুধু ওই কেন আরো অনেকেই ঘুমায়। ওদের বাসার দারোয়ানটাও লাঠিতে ভর দিয়ে ঘুমায় । তবুও রথি কেনো রিমির কথাই ভাবে ??  হটাৎ মুচকি মুচকি হাসি আসে রথির। ভাবে এই রিমিটা যেনো কেমন? এতোদিন একসাথে থাকে।

এতো কাছের বন্ধু অথচ রথির মনের কথা পড়তে পারেনি একরত্তি। হারামিটা শুধু শুধু কষ্ট দেয় রথিকে। হটাৎ ছাদের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসে রথির

হটাৎ  করে উঠে বসে..

ধ্যাত সব অসহ্য।  রিমিইইইইই……. তুই যদি….. Continue reading ভালবাসার ধূসর রঙ

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন শিরাজী জীবন ও কর্ম

উনিশ শতকের শেষভাগে বাঙালি মুসলমান সমাজে নবজাগরণের যে প্রচেষ্টা শুরু হয়েছিল তাতে সমকালীন বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষ যুক্ত হয়েছিলেন। কোনো সন্দেহ নেই যে সমকালীন আর্থসামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এ নবজাগরণের প্রয়োজন ছিল অপরিহার্য। এটাও অনস্বীকার্য যে, এ প্রচেষ্টায় সুফল ফলেছিল এবং বাঙালি মুসলমানের সার্বিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন সাধিত হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে আমরা ১৮৫৭ সালের ‘সিপাহি বিপ্লব’ বা উপমহাদেশের প্রথম স্বাধীনতার যুদ্ধের কথা স্মরণ করতে পারি।
এটা ঠিক যে, এতে মুসলমানদের ভূমিকা ছিল প্রধান ও অংশগ্রহণ ছিল ব্যাপক, কারণ তারাই ছিলেন শাসক জাতি এবং ক্ষমতা হারানোর জন্য তাদের ভেতরে বিরাজ করছিল প্রচণ্ড ক্ষোভ। এর বহিঃপ্রকাশ এর আগে নানাভাবে ঘটেছে। কিন্তু এ বিদ্রোহের বারুদে যিনি সর্বপ্রথম অগ্নিসংযোগ করেছিলেন, তিনি ছিলেন ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর ভারতীয় হিন্দু সিপাহি—মঙ্গল পাণ্ডে। Continue reading সৈয়দ ইসমাইল হোসেন শিরাজী জীবন ও কর্ম