Category Archives: প্রত্নতত্ত্ব

একটি প্রত্নতাত্ত্বিক দু:স্বপ্ন

nz169এক. একটা ইন্টারভিউ দিয়ে বিকেলে বাসায় ফিরছিলাম। আশেপাশে অনেকগুলো নির্মাণাধীন ভবন। হয়তো এগুলোর কোনো একটার পাশ দিয়ে আসার সময় উপর থেকে টুপ করে কি জানি মাথায় পড়লো। আস্তে আস্তে যন্তণাদায়ক দুনিয়া স্বর্গের মতো মনে হচ্ছিল। বেখেয়ালে পথ চলতে গিয়ে কখন উপর থেকে মাথায় ইটের টুকরোটা পড়লো বুঝতেই পারিনি। আস্তে আস্তে দৃষ্টি থেকে পর্দা সরে যাচ্ছে… হাজার বছরের সভ্যতা উদ্ধারে ব্যস্ত হয়ে পড়েছি। লটকন-জাম-আনারস আর গাবগাছে ভরপুর উয়ারী বটেশ্বর। নিভৃত গ্রাম রাইঙ্গারটেক। কাকডাকা ভোরে উঠতে হচ্ছে, কিন্তু কোনো কাউয়ার দেখা পাইনা। একটু পরেই প্রফেসরের তাড়া। মালসামানদি প্যাক কৈরা এযুগের ফেরাউন মুক্তার হাজির। তার সেই বিখ্যাত রিংটন মোরগের ডাক. কক কক কক.। স্যার বেটাকে কত ধমকেছেন। কিন্তু এরশাদ কাকার মতো ধৈরাই রাখছে এই যুগের সরকার, মোরগ লোকের দরকার, আর আমার চাই রিংটোনে মোরগ। বেকুবটা চিল্লছে, ভাইয়ারা উঠেন স্যার বকা দিবে। আমরাও তড়িঘড়ি করে উঠলাম। দৌড়ে ঢুকলাম টিনের ঝুপড়ি টাইপ প্যালা দেয়া বাথরুমে। দুর্গন্ধে বমি ঠেলে আসে, তবুও মনে হচ্ছে ভেতরে ঢুকে একপ্রস্থ ঘুমিয়ে নেই। বাইরে থেকে ধুম করে লাত্থি পড়ে দরাজায়। বাইরে থেকে মিরাজ চিল্লাছে ঐ … বাইরা। বের হয়ে ফ্রেশ হই, তারপর নাস্তার টেবিল. যথরীতি সবাই নড়েচড়ে বসার আগেই আমার হাত ধোয়ার শেষ। মিজানুর ভাই রেগে গিয়ে বলে ঐ খাওয়াটা ঠিকঠাক খা। একটু ভেংচি টাইপ হাসি দিয়ে বেরিয়ে আসি পাইচারি করতে থাকি বাইরে। Continue reading একটি প্রত্নতাত্ত্বিক দু:স্বপ্ন

শিল্পাচার্য জয়নুলের নবান্ন ক্রল পেইন্টিং

image_34664পেইন্টিং বিভিন্ন ধরণের হয়। এগুলোর নামকরণের ক্ষেত্রেও তাই ভিন্নতা লক্ষ  করা যায়। ক্রল পেইন্টিং নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করা একজন প্রত্নতত্ত্বের শিক্ষার্থীর জন্য  বেশ কঠিন। তবুও জয়নুলের নাম শোনর পর থেকে অনেক আগ্রহ জন্মেছিলো এই বিষয়টি কি একটু জানবো। আর জানলে তা আগ্রহীদের জন্য শেয়ার করবো। আভিধানিকভাবে ক্রল পেইন্টিংকে সঙ্গায়িত করার ক্ষেত্রে অনেকগুলো অভিধা লক্ষ করা যায়। এখানে প্রকারতাত্ত্বিক ও গাঠনিক দিককে অনেক বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়ে থাকে। বিশেষ করে কি ধরণের উপাদানের উপর স্ক্রল অংকন করা হবে। আর তা আঁকতে কি ধরণের রঞ্জক উপাদান ব্যবহৃত হবে তা অবস্থা বিশেষে অনেক বেশি গুরুত্ববহ হয়ে ওঠে।  আমরা অভিধানের পাতায় দৃষ্টি দিয়ে পাই……… Continue reading শিল্পাচার্য জয়নুলের নবান্ন ক্রল পেইন্টিং

আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া


আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়ার জন্ম ১৯১৮ সালের ১ অক্টোবর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। প্রাচীন পুঁথি সংগ্রহ, গবেষণা এবং প্রত্নসম্পদ অনুসন্ধান, আবিষ্কার ও সংগঠনে তিনি তুলনারহিত। এক শ ছুঁই ছুঁই বয়সেও সদা কর্মব্যস্ত।
মাসউদ আহমাদ: আপনি তো ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র ছিলেন এবং রেজাল্টও ভালো ছিল, প্রত্নতত্ত্বের মতো নীরস বিষয়ে উৎসাহী হলেন কীভাবে?
আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া: আমাদের পরিবারে পুঁথিচর্চার একটা পরিবেশ ছিল। শৈশবে দেখেছি, বাড়িতে পুঁথির বড় সংগ্রহ। আমার বাবা ছিলেন ফারসি ভাষার পণ্ডিত, তিনি পুঁথির পাঠক ও সংগ্রাহক ছিলেন। বই পড়ার প্রতি আগ্রহ ছোটবেলা থেকেই তৈরি হয়, পারিবারিক ঐতিহ্যের কারণেই বলতে পারেন। ঢাকা কলেজে পড়ার সময় প্রত্নতত্ত্ব ও ইতিহাস বিষয়ে আগ্রহ তৈরি হয় আমার। এরপর কর্মজীবনের প্রথম থেকেই আমি প্রত্নসম্পদ বিষয়ে জরিপ ও নোট নেওয়া শুরু করি। ১৯৪৬ সালে প্রভাষক হিসেবে যোগ দিই বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজে। সেই সময় নৃতত্ত্বের ওপর কাজ করছিলাম আমি। তখন Continue reading আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া

পৈশাচিক নেক্রোফিলিয়া বা শবাসক্তি (পর্ব-১)

প্SPN_Necrophiliaরত্নতত্ত্বে অধ্যয়ন করতে গিয়ে আমরা অতীত রাজা রাজড়াদের নানা ধরণের অবাক করার মতো খেয়াল খুশির পরিচয় পাই। এর মধ্যে অদ্ভুদ কিছু বিষয় যেমন মানুষের চিত্তকে বিচলিত করে তেমনি কিছু বিষয় আছে যেগুলো শুনলে ঘৃণায় মুখ বিকৃত করতে হয়। আমার একটা অভ্যাস আছে অবসর সময়টুকু বেশিরভাগই কাটাই হয় বই পড়ে কিংবা নেটে ব্রাউজিং করে যেখানে প্রত্নতত্ত্ব আর ইতিহাসই কেন্দ্রে থাকে। আর প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই এটা আমাকে এতটাই টানে যে আমার লেখাপড়ার গণ্ডিটা অনেকটা প্রত্নতত্বের মধ্যেই কিভাবে যেন আটকে গেছে। জা. বি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে তখন তৃতীয় বর্ষের মাঝামাঝি পড়ি এমনটা হবে। একটি সংবাদপত্রে ফিচার লেখার প্রস্তাব পেয়ে মিশরীয় মমির কিছু ছবি দেখছিলাম। ফিচার লেখার তুলনায় আমার অনুসন্ধিৎসু চোখ নিবদ্ধ হয় একটি বিশেষ বিষয়ের প্রতি। তখন ঐ প্রবন্ধ শেষ করার কাজ অনেক পিছিয়ে যায়। আমি ভাবতে থাকি অন্য বিষয় নিয়ে। Continue reading পৈশাচিক নেক্রোফিলিয়া বা শবাসক্তি (পর্ব-১)

ঘুরে আসতে পারেন ইদ্রাকপুর জলদুর্গ

আনুমানিক ১৬৬০ সালের দিকে বাংলার সুবাদার মীর জুমলা নির্মিত ইদ্রাকপুর দুর্গটি ঢাকার দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে ইছামতী নদীর পূর্ব তীরে মুন্সিগঞ্জ জেলা শহরে অবস্থিত। বর্তমানে নদী দুর্গ এলাকা থেকে অনেক দূরে সরে গেছে এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় জনবসতি গড়ে উঠেছে। নদীপথ শত্রুর আক্রমণ থেকে নিরাপদ রাখতে নির্মিত ইদ্রাকপুর জলদুর্গটি পূর্ব ও পশ্চিমে দু’ভাগে বিভক্ত। পূর্ব অংশ আয়তাকার এবং পশ্চিমের অসম আকৃতির দুটি অংশ মিলিত হয়ে সম্পূর্ণ দুর্গটি নির্মিত হয়েছে। Continue reading ঘুরে আসতে পারেন ইদ্রাকপুর জলদুর্গ

দজলা-ফোরাতের দেশ পর্ব এক (সুমেরীয় সভ্যতা)

নীলনদের তীরে গড়ে ওঠা পিরামিড আর মমির দেশ মিশরের পশ্চিমে লোহিত সাগর। লোহিত সাগরের উত্তর দিকে ভূমধ্যসাগরের পশ্চিম ঘেঁষে একটি চমৎকার ভূখণ্ড এগিয়ে গিয়েছে আরও উত্তরে। এশিয়া মাইনরকে উত্তরে রেখে দ্বিতীয়া পাওয়া চাঁদের মতো বাঁক নিয়েছে। দক্ষিণে নেমে এসেছে পারস্য উপসাগরের সীমানায়। চাঁদ-আকৃতি আর উর্বর মাটির জন্য অনেকের কাছে ভূখণ্ডটির নাম ফার্টাইল ক্রিসেন্ট বা অর্ধচন্দ্রাকৃতির উর্বর ভূমি। এই অঞ্চলেই গড়ে উঠেছে প্রাচীন পৃথিবীর বিখ্যাত মেসোপটেমীয় সভ্যতা। গ্রিক শব্দ ‘মেসোপটেমিয়ার’ অর্থ হচ্ছে ‘দুই নদীর মধ্যবর্তী ভূমি।’ মেসোপটেমিয়ার পূর্ব দিকে বয়ে গিয়েছে টাইগ্রিস নদী, যাকে দজলা নদীও বল হয়। আর পশ্চিমে বয়ে গিয়েছে ইউফ্রেটিস নদী। একে অনেকে বলে ফোরাত নদী।  Continue reading দজলা-ফোরাতের দেশ পর্ব এক (সুমেরীয় সভ্যতা)

বিশ্বমানবের স্থাপত্যকলা বিকাশের এক উজ্জল নিদর্শন: মিশরের পিরামিড

পিরামিড
অন্য কিছুর কথা বাদ দিলেও শুধুমাত্র স্থাপত্য শিল্পের জন্যই মিসরীয় সভ্যতা বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। এই স্থাপত্য শিল্পগুলোর মধ্যে পিরামিড এক অনন্য স্থান দখল করে আছে। অন্যান্য কারন থাকলেও মূলত ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে এই স্থাপনা গুলো নির্মান করা হয়েছিল বলে প্রত্নতাত্ত্বিকরা ধারনা করেছেন। মৃত্যুর পর মানুষের আত্মাগুলো যেন শান্তিতে থাকে এবং জীবিতদের উপকার করে-এমন ধারনা থেকে ঐ সময়ের সমাজের উঁচু শ্রেণীর মানুষ যেমন: ফারাও (সম্রাট), পুরোহিত, রাজ কর্মচারী- এদেরকে সমাহিত করার এমন পদ্ধতি খুজে বের করে যাতে মৃত্যুর পরও তাদের দেহ অবিকৃত ও সুরক্ষিত করে রাখা যায়। মূলত এভাবেই পিরামিডের উৎপত্তি। প্রায় ১৩৮ টি পিরামিড আবিষ্কৃত হয়েছে যেগুলো ফারাও ও তার সঙ্গীদের সমাধি হিসেবেই তৈরি করা হয়েছিল।
পিরামিড বলতেই চোখের সামনে তিন কোনাকার প্রিজমের মতো স্থাপনা ভেসে উঠলেও প্রথমদিককার পিরামিডগুলো ছিল আয়তাকার। এগুলোকে বলা হয় মাস্তাবা (Mastaba)।
মাস্তাবা (Mastaba)
আজ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার পূর্বে তৃতীয় রাজবংশের ফারাও জোসার (Djoser)- এর রাজত্বকালে ২৬৩০- ২৬১১ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে (Saqqara) সাক্কারা-তে প্রথম পিরামিড তৈরি করা হয় যার উচ্চতা ছিল ২০৪ ফুট। তিনিই প্রথম ধাপযুক্ত পিরামিড তৈরি করেছিলেন। Step Pyramid বা ধাপযুক্ত পিরামিড তৈরির পেছনে একটি কারন প্রত্নতাত্ত্বিকরা ধারনা করেছেন। সম্ভবত তারা এই ধাপগুলোকে স্বর্গের সিড়ি মনে করত। অর্থাৎ ফারাওরা এই সিড়ি দিয়ে স্বর্গে পৌছবেন এমন ধারনা থেকে সম্ভবত এই ধরনের পিরামিড তৈরি করা হয়েছিল।
Step Pyramid বা ধাপযুক্ত পিরামিড
৪র্থ রাজবংশের ফারাও (Sneferu) স্নেফরু সর্বপ্রথম ২৬০০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে (Dahshur) দাসুর- অঞ্চলে বর্তমান পিরামিডগুলোর প্রায় সমরুপ একটি পিরামিড নির্মান করেছিলেন। একে Bent Pyramid বা তির্যক বা বাকানো পিরামিড বলা হয়ে থাকে। এর উচ্চতা ছিল ৩৪৪ ফুট। এই পিরামিডের সাথে বর্তমান পিরামিডের পার্থক্য হলো এর ধারগুলো। বর্তমান পিরামিডগুলোর ধারগুলো এর তুলনায় অনেক মসৃন ও তিক্ষ্ণ। মূলত এর পরেই পিরামিডগুলো বর্তমান রূপ পেয়েছিল।
Bent Pyramid বা তির্যক পিরামিড
ভুবন বিখ্যাত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পিরামিড নির্মান করেছিলেন ফারাও (Sneferu) স্নেফরু-র ছেলে ফারাও (Khufu) খুফু। ২৫৮৯-২৫৬৬ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে (Giza) গিজায় নির্মিত এই বিখ্যাত পিরামিডটি অন্য পিরামিডগুলোর তুলনায় বিখ্যাত হয়ে আছে এর বিশেষ নির্মানশৈলির কারনে। প্রত্নতাত্ত্বিকরা গবেষনা করে যে সকল তথ্য পেয়েছেন এই পিরামিড সম্পর্কে তা আজও এই আধুনিক পৃথিবীর মানুষকে চরম বিস্মিত করে তোলে।
Pyramid at Giza (Front view)

প্রায় ৪৫০০ বছর আগে যে পিরামিডটি নির্মান করা হয়েছিল সেটির ভিত্তি ছিল পুরো বর্গাকার। ২৩০০০০০টি পাথরের ব্লক যেগুলোর প্রতিটির গড় ওজন ২.৫ টন। পুরো পিরামিডটির ওজন প্রায় ৬০০০০০০ টন। অবাক করা বিষয় হলো যে বর্গাকার ভিত্তির উপরে এটি নির্মান করা হয়েছিল তার অবস্থান পুরোপুরি উত্তর-দক্ষিন মেরু বরাবর নির্দিষ্ট। একচুল পরিমানও এদিক-সেদিক নয়। আরেকটি অবাক বিষয় হলো এর উচ্চতা দিয়ে এর পরিধিকে ভাগ করা হলে পাওয়া যায় সেই ধ্রুব সংখ্যাটিকে যার রহস্য আজও বিজ্ঞানীদের কাছে অজানা। হ্যাঁ, সেই ধ্রুব সংখ্যাটি হলো π (পাই)। এই পিরামিডের উচ্চতা ৪৮১ ফুট। এটি এমনভাবে নির্মান করা হয়েছিল যে, মিসরের যেখানেই সূর্য উঠুক সর্বপ্রথম আলোকরশ্নি এর চূড়ায় পৌছবে।
Giza pyramid complex
সংক্ষেপে আজ এ পর্যন্তই। অন্য কোনদিন আরও পিরামিডের নির্মান কৌশল, কারন, বর্তমান অবস্থা বিশদভাবে লেখার চেষ্টা করব।

লিবিয়ার প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ মিসরে পাচার হয়ে গেছে

লিবিয়ার সাব্রথার একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান।
লিবিয়ায় সরকারবিরোধী আন্দোলন চলাকালে পূর্বাঞ্চলের একটি ব্যাংকের ভোল্ট থেকে কয়েকশ’ প্রাচীন মুদ্রা, অলংকার ও শিলালিপি খোয়া গেছে এবং সেগুলো বিদেশে বিশেষত, মিসরে পাচার হয়ে গেছে বলে ধারণা প্রকাশ করেছে ন্যাশনাল ট্রাঞ্জিশনাল কাউন্সিল (এনটিসি)। বেনগাজিতে মে মাসে মুয়াম্মার গাদ্দাফির সেনাদের সঙ্গে এনটিসি বাহিনীর তুমুল লড়াইয়ের সময়টিতে ব্যাংকের ভোল্ট থেকে প্রাচীন মুদ্রাসহ প্রায় ৮ হাজার মূল্যবান সংগ্রহ লুট হয়েছে। ওই সময় ব্যাকংটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা লড়াইয়ের কারণে ঘটেছিল বলে জনশ্র“তি থাকলেও এখন ধারণা করা হচ্ছে, ব্যাংকে ডাকাতি হয়েছিল। ডাকাতদের লক্ষ্য ছিল বেনগাজির সম্পদ।
অক্টোবর মাসে লুট হয়ে যাওয়া কয়েন থেকে মাত্র একটি কয়েনই বিক্রি হয় দুই লাখ ৬৮ হাজার পাউন্ডে। লিবিয়া যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই বিভিন্ন সম্পদ লুট হওয়ার ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছিল। সে সময় এনটিসির পক্ষ থেকে এসব তথ্য উড়িয়ে দেয়া হয়। ভোল্ট থেকে প্রাচীন মুদ্রা লুট হওয়া ছাড়াও ব্যাংকে রাখা বৃহদায়কার পদক, ব্রেসলেট, পায়ের অলংকার, কানের দুল, হাতের আংটি এবং বাজুবন্দসহ ছোট ছোট অনেক অমূল্য পাথরও সে সময় লুট হয়ে গেছে। এই অমূল্য সম্পদের ভাণ্ডারকে বলা হতো, ‘ট্রেজার অব বেনগাজি’ বা বেনগাজির সম্পদ। প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন চুরি বা লুটের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় ঘটনা। লিবিয়ার পুরাকীর্তি সংগ্রহশালার পরিচালক ইউসুফ বিন নাসের বলেন, এটি এক মহাদুর্যোগ। আমাদের অমূল্য জাতীয় সম্পদ ও ইতিহাস খোয়া গেছে। এদিকে বেনগাজির একটি গয়না ঘরে কিছু ব্রোঞ্জের মুদ্রা দেখতে পেয়েছেন রয়টার্সের এক প্রতিনিধি। এসব মুদ্রার দাম জিজ্ঞেস করা হলে এগুলো ২ সহস াব্দ পুরনো বলে দোকানি জানায়। রয়টার্সের প্রতিনিধি বিক্রির জন্য রাখা মুদ্রার চিত্র নাসেরকে দেখালে তিনি জানান, এগুলো সম্ভবত ওই সংগ্রহেরই অংশ। লুট হওয়া মুদ্রার মধ্যে সোনা ও রূপার মুদ্রাও রয়েছে। এসব মুদ্রায় ইসলামী ক্যালিওগ্রাফি এবং কোরানের আয়াত লেখা রয়েছে। মিসরে কয়েকশ’ মুদ্রার সন্ধান পাওয়া গেছে বলেও মনে করা হচ্ছে। তবে এ খবর এখনও নিশ্চিত জানা যায়নি বলে জানিয়েছেন পুরাকীর্তিবিষয়ক মন্ত্রী ফাদেল আল হাসি। কিংস কলেজ লন্ডনের লিবিয়ার প্রতœতাত্ত্বিক নির্দশনবিষয়ক বিশেষজ্ঞ হাফেদ ওয়ালদা বলেন, প্রশাসনের ভেতরের কেউই এই লুটের সঙ্গে জড়িত। কারণ তারা জানতো ঠিক কোথায় আছে সম্পদগুলো। লিবিয়ার প্রয়াত নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির বিরুদ্ধে সর্বপ্রথম বেনগাজি শহরে থেকেই বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভ-পরবর্তী সময়ে এই বেনগাজিই হয় বিদ্রোহীদের মূল ঘাঁটি।
নতুন নেতৃত্বের সামনে কঠিন দায়িত্ব : হিলারি ক্লিনটন
লিবিয়ার নতুন নেতৃত্বের সামনে এখন অনেক কঠিন রাজনৈতিক দায়িত্ব অপেক্ষা করছে। রোববার ওয়াশিংটন পোস্টকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এ কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি এ দায়িত্ব পালনে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সাহায্যেরও প্রতিশ্র“তি দেন। তিনি বলেন, তাদের সামনে এখন অনেক কঠিন রাজনৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু তাদের তেমন কোন অভিজ্ঞতা নেই। ক্লিনটন বলেন, নতুন নেতৃত্বকে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। এটি একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ। দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিশ্বাসের লোককে কীভাবে একত্রিত করা যাবে সে বিষয় তাদের ঠিক করতে হবে। সব উপজাতির লোককে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। হিলারি আরও বলেন, নতুন নেতৃত্বকে স্পষ্ট করে জানতে হবে কী কর্মসূচি তাদের সামনে রয়েছে। বিভিন্ন মতের লোককে এক করার ক্ষেত্রে এসব কী করে সহায়ক হবে। তিনি লিবিয়ার নতুন নেতৃত্বকে প্রকৃত অর্থেই চিন্তাশীল উল্লেখ করে বলেন, যেভাবেই পারি আমরা তাদের সাহায্য করব।

নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক ও প্রত্নতাত্ত্বিক অধ্যাপক ড. আইয়ুব খান

প্রত্নতাত্ত্বিক, গবেষক, ইতিহাসবিদ ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আইয়ুব খান আর নেই।  বছর খানিক পূর্বে ছিনতাইকারীদের গুলিতে আহত হয়ে দীর্ঘদিন রোগভোগের পর অবশেষে বিভাগে ক্লাস নেয়া শুরু করেছিলেন। কিছুদিন পূর্বে বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৫ অক্টোবর, মঙ্গলবার রাত ১০:৩০টায় ঢাকায় হার্ট ফাউণ্ডেশন হাসপাতালে তিনি ইন্তিকাল করেন। (ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্নাইলাইহি রাজিউন) মৃত্যুর আগে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। অধ্যাপক ড. আইয়ুব খান ১৯৬৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলার পাইকরা ইউনিয়নের গোলরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৯ সালে Continue reading নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক ও প্রত্নতাত্ত্বিক অধ্যাপক ড. আইয়ুব খান

বাংলার ইতিহাসে হিন্দু মুসলিম সম্পর্ক

বাংলায় মুসলিম অধিকার প্রতিষ্ঠার ইতিহাস অনুধাবন করতে হলে এদেশে মুসলমানদের আগমনের ধারাটি প্রথম বুঝতে হবে। বাংলায় মুসলমানদের সামরিক সাফল্য প্রতিষ্ঠার পূর্বে মুসলমানদের আগমন ও মুসলিম সমাজ প্রতিষ্ঠা তিনটি পর্বে সংঘটিত হয়েছিল। প্রথম পর্বটির শুরু আট শতক থেকে। এসময় আরব বণিকরা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালির সমুদ্র তীরে নোঙর ফেলেন। বাণিজ্যিক কারণে মুসলমান বণিকরা ধীরে ধীরে পশ্চিম ও দক্ষিণ ভারত হয়ে বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশের সমুদ্র তীরাঞ্চলে এসে পৌঁছেছিলেন। এই আরব বণিকরা বাণিজ্যিক কারণে দীর্ঘদিন উপকূলবর্তী অঞ্চলে অবস্থান করেন। এদের কেউ কেউ স্থানীয় রমণী বিয়ে করেন। এভাবে সীমিত আকারে ঐ অঞ্চলে একটি মুসলিম সমাজ প্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়। অবশ্য এই বণিক শ্রেণির মধ্যে ধর্মপ্রচারের কোনো উদ্দেশ্য কাজ না করায় এ পর্বে মুসলিম সমাজ বিস্তার তেমন গতি পায়নি। তবে এই বণিক মুসলমানদের রচিত পথ ধরেই একদিন Continue reading বাংলার ইতিহাসে হিন্দু মুসলিম সম্পর্ক