Category Archives: বংলাদেশ

অদ্ভুত জাতি, তার অহেতুক অাবেগ

সময়টা ১৮৫৭, চলছে সিপাহী বিপ্লব। দোর্দণ্ড প্রতাপ লুটেরা পিশাচ ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে দলে দলে প্রাণ দিচ্ছেন বিপ্লবী ভারতবাসী। কটাক্ষ করে কয়েকজন ইংরেজ সেনা কর্মকর্তা বলেই বসলো সেন্টিমেন্টাল ফুলস। সত্যি এই তকমাটা সেই যে আমাদের উপর ঘোড়ার জিনের মত এঁটে বসেছে তার থেকে মুক্তির সুযোগ কোথায়। আমরা এখনো আবেগ প্রবণ জাতি। আমরা বাঁচতে শিখেছি অনেকটা এই আবেগের উপর ভর করে। তাইতো ক্রিকেটের মত তুচ্ছ একটি বিষয় আমাদের ভাবায়, আমাদের হাঁসায়-কাঁদায় সবাই মিলে মিশে উৎসব করার উপলক্ষ্য এনে দেয়। কিন্তু  জাতি হিসেবে আমাদের এই আবেগের মূল্য সাকিব-মুশফিকরা আর বুঝলো কোথায়? স্বাভাবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে গেলে এই বিষয়টি বলবেন সবাই কিন্তু আমি ভাবছি ভিন্ন কিছু বিষয় যার সাথে এই ব্যর্থতার গ্লানি একীভূত এবং পৌণপূণিক সম্পর্কিত করা যায়। Continue reading অদ্ভুত জাতি, তার অহেতুক অাবেগ

প্রথম আলোর দুই সোনা…

Untitled-1প্রথম আলোর দুইটা সোনা !! ধুর !! এই কথা শুইনা কি আপনি প্রথমেই তব্দা খাইছেন !! ভাবছেন এইডা কিসু হৈলো !! আরে ভাউ চেইতেন না একটু নইড়া চইড়া বসেন। দেন নিজেকেই কুয়েশ্চেন করেন উত্তর আপনা আপ পাইয়া যাবেন। আচ্ছা, ধরুন আপনাকে প্রশ্ন করা হলো বাংলাদেশের সবথেকে আলোচিত শব্দ কি? বজ্জাত পুলাপাইন হয়তো চুলের হিন্দি উচ্চারণ সহযোগে বলেই বসতে পারে ধুর বা… এইটা কোনো প্রশ্ন হৈলো? আপনি কিন্তু এর মধ্যেই প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেছেন। আর তার ঠিক পরেই যেদিকে তাকান খালি সোনা আর সোনা। বঙ্গভঙ্গের সময় ঐ সোনা নিয়ে টানাটানি করেছিলেন কবিগুরু রবি ঠাকুর। তার যোগ্য উত্তরসূরী সাকা চৌধুরী ঐ সোনা ধরে দিলেন আরেক দফা টান। তিনি তো নিজের সোনা কীর্তন করেই ক্ষান্ত দেননি। পাশাপাশি লাল মিয়া এবং সোনা মিয়ার বিবরণ সেই সাথে তার বর্ণ পরিবর্তনের আদিরসাত্মক কৌতুকের অবতারণাও করেন। দুষ্টু ছেলেদের মুখে মুখে সেই কথা আজও গোপনে নীরবে নিভৃতে ঘুরছে। Continue reading প্রথম আলোর দুই সোনা…

ডাক্তার আক্রমণের মিডিয়া স্ট্যান্টবাজি ও বাস্তবতা

4অল্প কিছুদিন হল সাংবাদিকতা পেশায় সরাসরি যুক্ত হয়েছি। বরাবর আমার মনে বদ্ধমূল ধারণা ছিলো Media Isn’t a place for the reflection of reality. যার কিছু বাস্তব নমুনা এখন প্রত্যাশার পারদকে মারিয়ানা ট্রেঞ্চর মতো নিচে নামিয়ে এনেছে। টেলিভিশন ক্যামেরার কিছু পূর্ব নির্ধারিত বিষয় নিয়ে চক্রবর্তীর মতো চক্রাকারে ঘুরপাক খাওয়ায় দেখেছে দিনের শিডিউল শেষ ঠিক সেখানেই শুরু পত্রিকাগুলোর। তথাকথিত কিছু পণ্ডিত ব্যক্তির ছেলে ভোলানো বিশ্লেষণে যেমন ঘটে আত্মশ্লাঘার নির্মম মঞ্চায়ন। তেমনি দলীয় বুদ্ধিবৃত্তিক পাণ্ডা হিসেবে তাদের দ্বিমুখী ক্ষুন্নিবৃত্তির পথও প্রশস্ত করেছে এইসব দৈনিকগুলো। শাঁখের করাত যেমন আসতে-যেতে দুইধারে কাটে, এসব পণ্ডিতের তেমনি দুদিকে লাভ। প্রথমত নিজ দলের থেকে পাণ্ডাগিরির মাসোয়ারা অন্যদিকে মাস শেষে পত্রিকার বিলের কড়কড়ে চেক। এর মধ্যখান দিয়ে মূলসত্য বরাবরের মতো আড়লেই থেকে যায়।
Continue reading ডাক্তার আক্রমণের মিডিয়া স্ট্যান্টবাজি ও বাস্তবতা

বাঙালি সেকুলারের মন (পর্ব-০১)

murad_05_1282935433_1-1বাঙালি সেকুলারের মন। অনেকটা বর্ষার আকাশে দেখা রংধনুর মত। হটাৎ আলো ঝলমল করে উঠে তারপর মিলিয়ে যায়। এর সাথে রাস্তার পাশের সুলভ শৌচাগারেরও অনেক সাদৃশ্য আছে। ছবিতে সাইনবোর্ডে দেখতে সুন্দর, কাছে গেলে দুর্গন্ধ, বমি ঠেলে আসতে চায়। এখানে নামটা শৌচাগার মলত্যাগ-মুত্রবিসর্জন সবাই চলে সেখানে। আর নামটা সেকুলার সেখানে ঈদের সময় ইসলাম, পুজোয়-বৈশাকে হিন্দুয়ানি কিংবা বড় দিনের কেকটাও বেশ মজা করে খাওয়া চলে। দোল পুর্নিমার দিনে বৌদ্ধ মন্দিরে গিয়ে সুন্দরী ভিক্ষুনীদের দিকে ক্ষুধার্ত শকুনের মতো শ্যেন দৃষ্টি দিতেও বাঙালি সেকুলারের জুড়ি নাই।

ঈদের দিনে তেমন সুবিধা করতে না পারায় তারা দূর্গোৎসবের কুমারি পূজার দিন ডি.এস.এল আর নিয়া ভিড় জমায় মণ্ডপে মণ্ডপে। দোল খেলতে গিয়ে চোখ মেলে চারদিকে দেখে কোথায় মেয়েদের জটলাটা। তারপর শুধু বালাম পিচকারি, তুনে মুঝে মারি বাজার অপেক্ষা। এরপর টিভি টকশো, পোশাকের উগ্রতায় তারা এককাঠি সরেস, নারী অধিকারের নামে কথার তুবড়ি ছোটে তাদের। কিন্তু কখনো তাদের কথায় আসেনি শহরে মেয়েদের জন্য Continue reading বাঙালি সেকুলারের মন (পর্ব-০১)

গারো নৃ-গোষ্ঠীর কৃত্যনির্ভর জীবন ও আচার

image_1324_368779বাংলাদেশে বসবাসরত বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্যরা সুদীর্ঘকাল যাবৎ বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজস্ব জাতিতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রাখতে সক্ষম হয়েছে। হাজার বছরের সহাবস্থান সত্ত্বেও তারা আত্মপরিচয় বিসর্জন দিয়ে বাঙালির ভাষা, খাদ্যাভ্যাস, পোশাক, আচার-অনুষ্ঠানের প্রতি পূর্ণ আকৃষ্ট হয়নি। জাতীয়তা, স্বকীয়তা তাদের ব্যবহারিক জীবনের সব কর্মেই আজও পরিলক্ষিত হয়। সমৃদ্ধ সংস্কৃতির উত্তরাধিকারী গারো নৃ-গোষ্ঠীরও রয়েছে নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্মবিশ্বাস ও আচার-অনুষ্ঠান। Continue reading গারো নৃ-গোষ্ঠীর কৃত্যনির্ভর জীবন ও আচার

শিল্পাচার্য জয়নুলের নবান্ন ক্রল পেইন্টিং

image_34664পেইন্টিং বিভিন্ন ধরণের হয়। এগুলোর নামকরণের ক্ষেত্রেও তাই ভিন্নতা লক্ষ  করা যায়। ক্রল পেইন্টিং নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করা একজন প্রত্নতত্ত্বের শিক্ষার্থীর জন্য  বেশ কঠিন। তবুও জয়নুলের নাম শোনর পর থেকে অনেক আগ্রহ জন্মেছিলো এই বিষয়টি কি একটু জানবো। আর জানলে তা আগ্রহীদের জন্য শেয়ার করবো। আভিধানিকভাবে ক্রল পেইন্টিংকে সঙ্গায়িত করার ক্ষেত্রে অনেকগুলো অভিধা লক্ষ করা যায়। এখানে প্রকারতাত্ত্বিক ও গাঠনিক দিককে অনেক বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়ে থাকে। বিশেষ করে কি ধরণের উপাদানের উপর স্ক্রল অংকন করা হবে। আর তা আঁকতে কি ধরণের রঞ্জক উপাদান ব্যবহৃত হবে তা অবস্থা বিশেষে অনেক বেশি গুরুত্ববহ হয়ে ওঠে।  আমরা অভিধানের পাতায় দৃষ্টি দিয়ে পাই……… Continue reading শিল্পাচার্য জয়নুলের নবান্ন ক্রল পেইন্টিং

একজন প্রত্নতাত্ত্বিক আবুল কালাম মোহাম্মদ জাকারিয়ার গল্প

270512_10151105087801510_24826410_nপ্রথম আলো পত্রিকাটা বাসার ড্রয়িংরুমের ডেস্কে পড়ে থাকলেও খুলে দেখা হয় কম। কিন্তু আজকে দেখেছি। দেখেছি বলা যাবেনা অনেকটা দেখতে হয়েছে। ঘুম থেকে ওঠার পর চাচার হুংকার, পত্রিকাটা দেখ গাধারাম তোর প্রিয় ব্যক্তিকে নিয়ে লিখেছে। পাতা উল্টে দেখি দেশবরেণ্যে প্রত্নতাত্ত্বিক আবুল কালাম মো. জাকারিয়ার একটি সাক্ষাতকার ছেপেছে ওরা। ব্যাস দাত ব্রাশ করার আগেই অনেকটা দাড়িয়ে দাড়িয়ে পড়লাম পুরো সাক্ষাতকারটি। সত্যি অন্য এক জগতে চলে গেছিলাম। ভাবছিলাম এইচ.এস.সি পরীক্ষা দিয়ে অপেক্ষমান থাকার ঐ সময়টার কথা। তারপর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে ভর্তি হওয়া। ইতিহাস আর প্রত্নতত্ত্বের সাগরে কিভাবে ডুব দিয়েছিলাম সে কথাও আস্তে আস্তে মনে পড়ছে। কিছুক্ষণের জন্য হয়ে গেছি অন্যমানুষ। আর হবেই না কেনো !! যাঁর কাছে আর্কিওলজির হাতেখড়ি। সেই মহান মানুষটাকে দেখে অনেক ভালো লাগছে। ভাবছিলাম মুনীর চৌধুরী কি ভূল বকেছিলেন। মানুষ মরে গেলে পচে যায়, বেচে থাকলে বদলায়, কারণে অকারণে বদলায়। কিন্তু কৈ প্রিয় জাকারিয়া স্যার তো এতটুকুও বদলে যাননি। Continue reading একজন প্রত্নতাত্ত্বিক আবুল কালাম মোহাম্মদ জাকারিয়ার গল্প

আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া


আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়ার জন্ম ১৯১৮ সালের ১ অক্টোবর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। প্রাচীন পুঁথি সংগ্রহ, গবেষণা এবং প্রত্নসম্পদ অনুসন্ধান, আবিষ্কার ও সংগঠনে তিনি তুলনারহিত। এক শ ছুঁই ছুঁই বয়সেও সদা কর্মব্যস্ত।
মাসউদ আহমাদ: আপনি তো ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র ছিলেন এবং রেজাল্টও ভালো ছিল, প্রত্নতত্ত্বের মতো নীরস বিষয়ে উৎসাহী হলেন কীভাবে?
আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া: আমাদের পরিবারে পুঁথিচর্চার একটা পরিবেশ ছিল। শৈশবে দেখেছি, বাড়িতে পুঁথির বড় সংগ্রহ। আমার বাবা ছিলেন ফারসি ভাষার পণ্ডিত, তিনি পুঁথির পাঠক ও সংগ্রাহক ছিলেন। বই পড়ার প্রতি আগ্রহ ছোটবেলা থেকেই তৈরি হয়, পারিবারিক ঐতিহ্যের কারণেই বলতে পারেন। ঢাকা কলেজে পড়ার সময় প্রত্নতত্ত্ব ও ইতিহাস বিষয়ে আগ্রহ তৈরি হয় আমার। এরপর কর্মজীবনের প্রথম থেকেই আমি প্রত্নসম্পদ বিষয়ে জরিপ ও নোট নেওয়া শুরু করি। ১৯৪৬ সালে প্রভাষক হিসেবে যোগ দিই বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজে। সেই সময় নৃতত্ত্বের ওপর কাজ করছিলাম আমি। তখন Continue reading আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া

জ্যোতির্বিদ অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম

বাংলাদেশের বিশিষ্ট পদার্থবিজ্ঞানী ও আন্তর্জাতিক ক্ষ্যাতিসম্পন্ন জ্যোতির্বিদ অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম। চট্টগ্রামের এক বেসরকারি হাসপাতালে মাত্র ৭৪ বছর বয়সেই থমকে গেছে উনার জীবনচক্র। মহাবিশ্বের উদ্ভব ও পরিণতি নিয়ে মৌলিক গবেষণার জন্য তিনি বিখ্যাত ছিলেন যা কেমব্রিজের মতো বিশ্ববিদ্যালয়কেও আলোড়িত করেছিল। হাজারো বিবেকবর্জিত শিক্ষকনামের জড়পদার্থের ভিড়ে খুঁজে পাওয়া একটি উজ্জল নক্ষত্রকে হারালো বাংলাদেশ। কিছু শিক্ষক যেখানে নিজেদের জন্মস্থান পাব্লিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সন্ত্রাসীদের আস্তানা বানিয়ে প্রাইভেটফার্মে মুর্গিচরাতে ব্যস্ত। ঠিক সেই দেশে জন্মেও টাকার কাছে বিবেক আর দেশের প্রতি ভালোবাসা বিক্রি করেন নাই শ্রদ্ধেয় জামাল নজরুল ইসলাম স্যার। কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়কে তুচ্ছ ভেবে থেকে গেছেন দেশে, তাও চাটগাঁইয়া পাড়াতে। ভাবলৈতে ঢাকাতেও আসেননি।
বড় কষ্ট হয় যখন মান্যবর জামিলুর রেজা চৌধুরী স্যারদের মতো মানুষ বুয়েটের নুন খেয়ে এতো বড় হয়ে শেষ পর্যন্ত গুণ গান ব্রাকের। অবাক লাগে উনারা কিভাবে বলেন পাব্লিক বিশ্ববিদ্যালয় নষ্টমির আখড়া। Continue reading জ্যোতির্বিদ অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম

ঘুরে আসতে পারেন ইদ্রাকপুর জলদুর্গ

আনুমানিক ১৬৬০ সালের দিকে বাংলার সুবাদার মীর জুমলা নির্মিত ইদ্রাকপুর দুর্গটি ঢাকার দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে ইছামতী নদীর পূর্ব তীরে মুন্সিগঞ্জ জেলা শহরে অবস্থিত। বর্তমানে নদী দুর্গ এলাকা থেকে অনেক দূরে সরে গেছে এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় জনবসতি গড়ে উঠেছে। নদীপথ শত্রুর আক্রমণ থেকে নিরাপদ রাখতে নির্মিত ইদ্রাকপুর জলদুর্গটি পূর্ব ও পশ্চিমে দু’ভাগে বিভক্ত। পূর্ব অংশ আয়তাকার এবং পশ্চিমের অসম আকৃতির দুটি অংশ মিলিত হয়ে সম্পূর্ণ দুর্গটি নির্মিত হয়েছে। Continue reading ঘুরে আসতে পারেন ইদ্রাকপুর জলদুর্গ