Category Archives: শিল্প-সংস্কৃতি

একজন বাংলাদেশীর মার্কেজ দর্শন

পুরাতন চাইল ভাতে বাড়ে, ছুইট্টা যাওয়া মাছের আকার বাড়ে আর কেউ মরলে তার দাম বাড়ে। একবাক্যে এটাই বাঙালি সংস্কৃতির হালচাল। স্বাধীনতার চার দশক পেরুলো, আমরা পেলাম বাংলাদেশ কিন্তু ঐ হতভাগা বাঙালিই থাকলাম, বাংলাদেশী হৈয়া স্বভাব পাল্টাইতে পারলাম না। বাইরের দেশে এক একটা রথি মহারথি মরে আমরা কাইন্দা এতো বেশি পানি ঝরাই মনে হয় ইন্ডিয়া ফারাক্কা বাঁধ মুর্শিবাদের ধুলিয়ানে না দিয়া আমগের চোউক্ষের সম্মুখে দিলে আরো বেশি ভালা ঐতো।

যাউকগা এইবার বাঙ্গালি কাইন্দা কাইট্যা লেপ-তোষক খ্যাঁতা ভিজাইতেছে Gabriel García Márquez কে নিয়া। বাস্তব কথা হচ্ছে এমুন লোকও কান্নাকাটি করতেছে যারা মার্কেজের একটা বই পড়া দূরে থাক, নামও মরার পর প্রথম শুনছে। ক্যারে ভূপেন এগের সমস্যা কুতায় !!
আমি জোর দিয়ে বলতে পারি বাংলাদেশে উনি কখনোই জনপ্রিয় ছিলেন না, এখনো নন। লোকে মনে করতেছে মার্কেজ নিয়া অন্তত একটা স্ট্যাটাস না কোপাইলে ইজ্জত থাকে না। তাই তারাও নাচতেছে যারা মার্কেজের একটা বইও পড়েনি। Continue reading একজন বাংলাদেশীর মার্কেজ দর্শন

Advertisements

আমাদের উত্তর-ঔপনিবেশিক জ্ঞানতত্ত্ব ও বাংলা দাবাং চলচিত্রের অশ্লীলতা

মডার্ন ডিসকোর্স অভিজ্ঞতাবাদীদের সাথে একাত্ম হয়ে ইম্পিরিয়ালিস্টিক নলেজকে সংজ্ঞায়িত ও উপরিস্থাপিত করতে চায়। এক্ষেত্রে স্বঘোষিত, স্বরূপায়িত ও স্বপ্রণোদিত একটি ডিসকোর্সকে প্যারামিটার হিসেবে নির্ধারণ করে নিয়েছে উপনিবেশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা। এখানে অশ্লীলতার সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছে পশ্চিম, শালীনতার সংজ্ঞা দেয়ার এখতিয়ার তাদের হাতেই বলে তারা মনে করে। তাইতো মেরিলিন মনেরোরা যখন শরীরের শেষ সুতোটিও খুলে ফেলে সেটা হয় সংস্কৃতির অনুসঙ্গ। আফ্রিকানরা ল্যাংট পরলে সেটা হয় অসভ্যতা। Continue reading আমাদের উত্তর-ঔপনিবেশিক জ্ঞানতত্ত্ব ও বাংলা দাবাং চলচিত্রের অশ্লীলতা

মিশেল ফুঁকো ও উত্তর আধুনিক চিন্তাকাঠামো

urlবিশিষ্ট দার্শনিক ও উত্তর আধুনিক চিন্তাধারার অন্যতম পুরোধা মিশেল ফুঁকো ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের ১৫ অক্টোবর ফ্রান্সের Poitiers নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। ফ্রান্সের বিশিষ্ট সার্জন পল ফুকো ছিলেন তাঁর বাবা। বাবা তাঁর নাম রেখেছিলেন পল-মিশেল ফুকো, সেই সাথে ইচ্ছা ছিল জ্ঞানচর্চা শেশে ফুঁকো বাবার মতো চিকিৎসক হবেন। শিক্ষাজীবনের প্রাথমিক সময় বেশ ভালোভাবে কাটতে থাকে তার। তবে তাঁর প্রতিভার বিকাশ লক্ষ করা যায় বিখ্যাত জেসুইট কলেজ সেন্ট-স্টানিসলাসে ভর্তির পর। পড়াশোনায় বিশেষ সাফল্য তাঁকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে ফ্রান্সের মানবিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মক্ষেত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান École Normale Supérieure
– এ প্রবেশের সুযোগ করে দেয়। তবে এখানকার জীবন ফুকোর জন্য ছিল বেশ কষ্টকর। নানা কারণে তিনি প্রচণ্ড অবসাদগ্রস্ততা ও হতাশায় ভুগতে থাকেন। একসময় মানসিক বৈকল্য তাকে মনোচিকিৎসকের স্মরণাপন্ন হতে বাধ্য করে। তিনি এরপর হটাৎ মনোবিজ্ঞানে বিশেষ আগ্রহী হন। Continue reading মিশেল ফুঁকো ও উত্তর আধুনিক চিন্তাকাঠামো

ঘুরে আসতে পারেন ইদ্রাকপুর জলদুর্গ

আনুমানিক ১৬৬০ সালের দিকে বাংলার সুবাদার মীর জুমলা নির্মিত ইদ্রাকপুর দুর্গটি ঢাকার দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে ইছামতী নদীর পূর্ব তীরে মুন্সিগঞ্জ জেলা শহরে অবস্থিত। বর্তমানে নদী দুর্গ এলাকা থেকে অনেক দূরে সরে গেছে এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় জনবসতি গড়ে উঠেছে। নদীপথ শত্রুর আক্রমণ থেকে নিরাপদ রাখতে নির্মিত ইদ্রাকপুর জলদুর্গটি পূর্ব ও পশ্চিমে দু’ভাগে বিভক্ত। পূর্ব অংশ আয়তাকার এবং পশ্চিমের অসম আকৃতির দুটি অংশ মিলিত হয়ে সম্পূর্ণ দুর্গটি নির্মিত হয়েছে। Continue reading ঘুরে আসতে পারেন ইদ্রাকপুর জলদুর্গ

হুমায়ুন আহমেদের বই ডাউনলোড

humayun_5সবাইকে অবাক করে না ফেরার দেশে চলে গেছেন হুমায়ুন আহমেদ। কিন্তু রেখে গেছেন অগণিত স্মৃতি। রেখে গেছেন অগণিত বই। এই বইগুলো শতাব্দী ধরে স্মরণ করাবে প্রিয় লেখককে। একজন রবীন্দ্রনাথ, নজরুল কিংবা জীবনানন্দ বাংলা সাহিত্যকে কি দিয়ে গেছেন সেটা দেখার সুযোগ হয়নি। বিশেষ করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে অতিরিক্ত লাফালাফি আর শুশীলদের আতলামি যারপরনাই বিরক্ত করেছে আমায়। সে দিক থেকে বিচার করলে আমার হিসেবে বাংলাদেশী সাহিত্যিক হিসেবে হুমায়ুন আহমেদের স্থান সবার উপরে। বিশেষ করে সংখ্যাতাত্ত্বিক দিকে তিনি ছাড়িয়ে গেছেন সবাইকে। এক্ষেত্রে তিনি মানে,গুণে যোগ্যতা আর নৈপূন্যে সবার থেকে অনন্য।

বইগুলোর নামসহ লিংক..

 ১. একটি সাইকেল এবং কয়েকটি ডাহুক পাখি
২. বাদশা নামদার
৩. হিমু এবং একটি রাশিয়ান পরী
৪. পুফি
৫. ম্যাজিক মুন্সী
৬. বল পয়েন্ট
৭. কাঠ পেন্সিল

Continue reading হুমায়ুন আহমেদের বই ডাউনলোড

ভালবাসার ধূসর রঙ

গভীর রাত। রথি শুয়ে আছে। তার চোখে ঘুম নেই। ইদানিং প্রায়ই তার এমন হয়। ঘুম আসেনা। বিছনায় মরার মত শুয়ে থাকতে ভারী কষ্ট হয় তার। পাশের রুমে বাসার সবাই ভোস ভোস করে ঘুমায়। হটাৎ রথির খুব মন খারাপ হয়। শুধু ওই কেন আরো অনেকেই ঘুমায়। ওদের বাসার দারোয়ানটাও লাঠিতে ভর দিয়ে ঘুমায় । তবুও রথি কেনো রিমির কথাই ভাবে ??  হটাৎ মুচকি মুচকি হাসি আসে রথির। ভাবে এই রিমিটা যেনো কেমন? এতোদিন একসাথে থাকে।

এতো কাছের বন্ধু অথচ রথির মনের কথা পড়তে পারেনি একরত্তি। হারামিটা শুধু শুধু কষ্ট দেয় রথিকে। হটাৎ ছাদের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসে রথির

হটাৎ  করে উঠে বসে..

ধ্যাত সব অসহ্য।  রিমিইইইইই……. তুই যদি….. Continue reading ভালবাসার ধূসর রঙ

অব্যক্ত অনুভূতি

এই অব্যক্ত অনুভূতি

স্মৃতির দেয়াল চিরে

বিস্মৃতির অতল গহ্বরে

হারিয়ে যেতে চলেছে যখন।

আজগুবি চিন্তায় নিবিষ্ট

হতে বাধ্য হয় যখন

কারো ফেরারি মন

হৃদয়ের অনবরত উল্লম্ফন

থামিয়ে দিতে পারে Continue reading অব্যক্ত অনুভূতি

প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের বাণিজ্যিক সম্ভবনা ও চলচিত্র ভাবনায় নতুনত্ব।

চলচিত্র দৃশ্যপটে প্রত্নস্থান কান্তজিউর মন্দির

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই একটা বিষয় খারাপ লাগতো। আর্কিওলজি বালার পর পর পাব্লিক বলতো আর্কিটেকচার নাকি। কিংবা  দেখেছি নাম শোনা মাত্র মানুষ নাক কুঁচকে মুখটা ঈষৎ বাকিয়ে বলে এটা কি ??

পরে শুধুই ভাবতাম তোরা যে যা বলিস ভাই!! যেমনে হোক প্রত্নতত্ত্বের জন্য প্রচারণা চাই। এখন অনেক ভালো লাগে যখন দেখি ফেসবুকে খোলা কয়েকটি গ্রুপ আর পেজের হাজার হাজার লাইক-কমেন্ট জানান দেয় আমরা প্রত্নতত্ত্ব পড়ি।  তারপর আগ্রহী হয়েছিলাম কিভাবে এদেশের মিডিয়ায় প্রত্নস্থানগুলোকে জনপ্রিয় করে তোলা যায়। পাণ্ডিত্যের মোহে অন্ধ হয়ে প্রত্নস্থানগুলো কখনই পাদপ্রদীপে না আসুক এমনটি কখনো চাইতাম না। তাই একটু অন্যরকম করেই ভাবতে শুরু করি। এখন সময় পাল্টেছে কিছুদিন পর পর আমদের প্রত্নস্থানগুলোর উপর বেশ কিছু প্রামাণ্য চিত্র দেখানো হয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে। পত্রপত্রিকাতেও অনেক ফিচার আসে। কিন্তু ভারতীয় বাংলা আর হিন্দির সাথে দ্বৈরথে দিনের পর দিন পিছিয়ে পড়েছে আমাদের মিডিয়া। তার লেজ ধরে চলচিত্রেও আজ দৈন্যদশা। তাই চলচিত্র ভাবনায় নতুনত্ব এখন সময়ের দাবি । তাই এতোদিন শুধুই Continue reading প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের বাণিজ্যিক সম্ভবনা ও চলচিত্র ভাবনায় নতুনত্ব।

হুমায়ুন আহমেদের কর্মময় জীবন কিছু বিতর্ক, কিছু প্রাপ্তি (ফেসবুক আলোচনা কপি পেস্ট)

বরেণ্য কথা সাহিত্যিক হুমাযূন আহমেদের মৃত্যুর দিন রাতেই তৌসিফ সালাম ভাইকে একটি স্ট্যাটাস দিতে দেখি। উনি ওখানে বলেছিলেন “অভিনেত্রী শাওন”।

ছোট্ট মাত্র দুই ওয়ার্ডের স্ট্যাটাসের ডিসকাশনে পরিষ্কার হয়েছিল মূল কাহিনী। পরে আজ শুভ ভাই একটি স্ট্যাটাস দিলে সেখানে চমৎকার কিছু ডিসকাশন দেখা যায়। ফেসবুকের এই ডিসকাশন গুলো হারিয়ে যায় দ্রুতই তাই ভাবছি এটা সংরক্ষণ করা জরুরী। ফেসবুকে যেভাবে মন্তব্য করা হয়েছে সেভাবেই সরাসরি কপি পেস্ট করে সংরক্ষণ করছি। এছাড়া এটা সবাই দেখতে পারবেন।  ধন্যবাদ। Continue reading হুমায়ুন আহমেদের কর্মময় জীবন কিছু বিতর্ক, কিছু প্রাপ্তি (ফেসবুক আলোচনা কপি পেস্ট)

উপলদ্ধি পর্ব চতুর্থ/ শেষ পর্ব

জরুরী কাজে ফারুকের সাথে ধানমণ্ডি লেকের পেছনে এক স্যারের বাসায় গেছি। হাজারো গর্ত আর খানা-খন্দকে ভরা ভাঙা রাস্তা দিয়ে চলতে গিয়ে দেহের সব গুলো হাড্ডি যেন নড়ে যায়। আমাদের দেশের নেতানেত্রীরা বরাবর একটা কথাই বলেন ‘আমাদের দেশ নাকি উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে’। উন্নয়নের জোয়ার কি তা দেখা কিংবা সেই জোয়ারে ভাসমান বাংলাদেশ দেখতে না পেলেও আজ দেখলাম সামান্য বৃষ্টির পর কিভাবে রাস্তায় জমে ওঠা পানিতে মানুষের বিষ্ঠা ভেসে বেড়াচ্ছে। আমি ভাবলাম হায়রে বাংলাদেশ !! আমাদের দেশ কি অতিরিক্ত উন্নয়নের প্রভাবে হালকা হয়ে এই বিষ্ঠার মতো ভাসছে নাকি ? যাক আমার মতো ক্ষুদ্রের পক্ষে এতোবড় কথা বলা বা চিন্তা করার সুযোগ কই। এটা বরং আমাদের শুশীল সমাজের জন্য ছেড়ে দিই। কারন দেশ সমস্যা জর্জরিত না হলে উনারা কাদের লক্ষ্য করে জ্ঞানগর্ভ উপদেশ দিয়ে প্রতিটি ঘন্টা প্রতিটি মিনিট হিসেবে অর্থযোগের উন্মুক্ত দুয়ার খুঁজে নিবেন। এই ভাঙা রাস্তায় রিক্সা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার এক পর্যায়ে রিক্সা ওয়ালা বলে সামনে বিশাল জ্যাম। রিক্সা আর এগুবে না। অগত্য ভাড়া চুকিয়ে হেটে সামনে এগিয়ে যেতে চেষ্টা করি। পরে আবিষ্কার করি লেককে কেন্দ্র করে একটা বিশাল জটলা।
একটু এগিয়ে গিয়ে দেখি জনতা পানিতে ভাসমান একটি লাশের দিকে ইঙ্গিত করে চিৎকার চেচামেচি করছে। পরক্ষনে বুঝতে পারি লাশ একটা নয় দুটো। প্রথমটির বড় চুল কানে দুল তারপর উল্টো হয়ে ভেসে থাকায় মুখ পানির নিচে তাই বাইরে চেনা বেশ কঠিন এটা ছেলে না মেয়ে তবে দ্বিতীয়টি সহজেই বোঝা যায় মেয়ে। ফারুকের কেন যেন সন্দেহ হয়। ও মনের অজান্তেই আমার দিকে ফিরে বলে দোস্ত এই শালা আমাদের ইমন নয় তো। ইমন একসময় আমাদের খুব কাছের বন্ধু ছিল। কিন্তু পরবর্তিতে তার স্বভাবে জঘন্যরকম পরিবর্তন আসে। তাই তার মুখ ও দেখতে চাইতাম না আমরা বিশেষত সেকেল চিন্তাধারার আমি ওর গন্ধ পেলে সেখান থেকে অনেকটা ঘৃণায় কেটে পড়তাম। বিশেষত বিভিন্ন নেশাদ্রব্য গ্রহন। প্রেম করা ও অনেকটা ঘোষণা দিয়ে বান্ধবীর সাথে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তোলা সহ বেশ কিছু ঘটনা সে ঘটিয়েছিল যা আমাদের মতো সাধারণ ছেলেদের থেকে তাকে আলাদা করে দেয়। কলেজের দুর্দান্ত মেধাবী ছাত্র ইমন ভর্তি হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় । কিন্তু কিছুদিন পরে তার বান্ধবীর দাবি মেটাতে ইস্ট ওয়েস্ট এর মতো একটা অঘা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে বি বি এতে ভর্তি হয়। তখন থেকেই তার হতাশার শুরু। তবুও এক সময়ের খুব কাছের বন্ধুর এই করুণ পরিণতি দেখে দুজনের চোখ ছলছল করে ওঠে। এখন এই লাশ সনাক্ত করতে গেলে নানা সমস্যার পাশাপাশি পুলিশ ভায়ারা তো ঘড়িয়ালের থেকেও বিশলাকৃতির মুখব্যাদান করে আছেন। কিন্তু এতো কিছু না ভেবে আমরা গিয়ে চিৎকার দেই এই ছেলে আমাদের বন্ধু আমরা লাশ ওর পরিবারের কাছে নিয়ে যেতে চাই। সাথে সাথে আমজনতার দৃষ্টি শ্যেণ দৃষ্টি গিয়ে পড়লো । সবাই এমনভাবে আমাদের দুজনের দিকে তাকাচ্ছে যেন একুশ শতকের কোন আশ্চর্যজনক প্রাণিকে দেখছে। আর সেই সাথে মিডিয়া আর পুলিশ ভায়ারাও আমাদের দিকে এগিয়ে আসতে শুরু করেছে। তাদের সামলানোর জটিলতা চিন্তা করে আমি আর ফারুক এই সাহস দেখাইনি। দেখিয়েছি বন্ধুত্বের দাবি মেটাতে। আমরা মিডিয়ায় ওর নাম বলে সেটা স্ক্রল আকারে দেখিয়ে আমার ফোন নম্বর দেই। পুলিশ চাইছে লাশ উঠিয়ে দ্রুত মর্গে নিতে। তাহলে তাদের পকেট বেশ কয়েকদিনের মতো শান্ত রাখা যাবে এটা অনেকটাই নিশ্চিত। যাহোক আমরা এটা ঠিক করতে চাইছি যতো দ্রুত ওর অভিভাবকরা এসে এর দায়িত্ব নেন আমাদের তত দ্রুত মুক্তি মিলবে। সময়টা জঘন্যরকম যন্ত্রণার মনে হয়েছে আমাদের কাছে।
পেছন ফিরে তাকাই।
লেকের অনেকটা নীল প্রায় স্বচ্ছ পানিতে ভাসছে এক যুবতীর লাশ। কালোপানার মতো ভাসছে দীঘল ব্লন্ডিং চুল, বিকৃতভাবে বেঁকে আছে মুখ তাতে অসহনীয় কোন যন্ত্রণার ছাপ। পরণের থ্রি -কোয়র্টার জিন্স জিন্স আর হাতাকাটা টপ সেই সাথে উন্মুক্ত হাতে করা ট্যাটু দেখে বোঝাই যায় এই মেয়ে যুগের থেকে কতটা এগিয়ে চলতে চেষ্টা করতো। কিন্তু তার এগিয়ে যাওয়ার গতি এতোটাই বেশি ছিল যার জন্য কোন এক ¯িপ্রড ব্রেকারে ধাক্কা লেগে উল্টে গিয়ে এই লেকের পানিতে আশ্রয় নিয়েছে। আমরা অনুমান করি এই হয়তো সেই রিমি। যার সাথে জড়িয়ে গিয়ে ইমন তার ভাই সমতূল্য বন্ধুদের ছুঁড়ে ফেলে নতুন জীবনের আশায় প্রতিটি পদক্ষেপে রঙিন স্বপ্ন দেখতো আর আজ এই দুনিয়ার মায়া ত্যাগ কর ওপারে চলে গেল। বেরসিক লেখকরা বলে থাকেন বেদনার রং নাকি নীল কিন্তু স্বপ্ন যে ধূসর বর্ণের তা আজ অনেকটাই চর্মচক্ষে দেখতে পাচ্ছি। আমি এখন মনে মনে বললাম ‘হায়রে ভালবাসা এটা মানুষকে শুধু কাছেই টানেনা, পানিতেও ভাসায়’। আসলে শরৎবাবুর করা একটা জনপ্রিয় ডায়লগ নিজের মতো কাস্টমাইজ করে নিয়েছি ঠিক যেমনটি করে ওয়েব টেম্পলেট ডাউনলোড করে কাস্টমাইজ করে নিজের ওয়েবসাইটের সৌন্দর্য বর্ধন করি।
এইতো ক্ষনিকের ভালবাসা। কিছুটা ভাবাবেগ। তারপর আরো গভীরতা। শেষ পরিণতি এত করুণ হবে কেউ তা ভাবেনি। মনে হয় প্রেমে একবার পড়ে গেলে তাদের হাতে বেরসিকদের মতো ভাবার সময় থাকেনা। জীবনকে তখন তাড়িয়ে নিয়ে যায় এক ধরণের ঝড়। এই ঝড় একটি ইল্যুশন বা এক ধরণের মায়া তৈরী করে তা কিভাবে সামাল দেয়া যায় প্রেমিক প্রেমিকা যুগল হয়তো বুঝে উঠতে পারেনা। অন্যদিকে তারা না আধুনিক, তারা না প্রগতিবাদী এই সব সেকেলে চিন্তা করলে তাদের চলে নাকি ? তথাকথিত আধুনিকতা নামের মরাকাষ্ঠের উপর দাড়িয়ে থাকা দর্শন বলে এই ভালবাসা এই প্রেম নাকি বড়ই খাপছাড়া, এটা অনেকটা উদ্ভান্ত টর্ণেডোর মতো ধেয়ে আসে। তাই তাদেরই বা দোষ কোথায়। কিন্তু বাস্তব সত্য গণ্ডমূর্খও জানে। নিজেদের নিতান্ত আধুনিক প্রমাণ করতেই যুগের থেকে একধাপ এগিয়ে অনেকটাই উদার হতে চায় তারা । তবে এখানে মেয়েদের ক্ষেত্রে সমস্যাটা অনেক গুরুতর। অনেক মেয়েকেই দেখা যায় ছেলে বন্ধুকে প্রশ্রয় দিয়ে বেশি উদার হতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত স্ফীত উদরের মালিক হয় । দৃশ্য পরিণতি পায় তৃতীয় একটি জীবনকে সাথে নিয়ে এক গহীন অন্ধকারের পথে অগস্ত্য যাত্রার মাধ্যমে। কিংবা উদারতার সাথে নিজের সতীত্ব বিসর্জন দিয়ে এক সময় প্রত্যাখ্যাত হয়ে মারাত্ত্বক হতাশা আর জীবনের প্রতি এক তীব্র ঘৃণা নিয়ে বাকি জীবন পার করতে বাধ্য হওয়া। এই বিরহ নিনাদ কোন একদিন কারণ বাদেই বেজে উঠবে এটা ছিল অনেকটা অনুমিতই ছিল। তবু এতটা করুণ হবে তার সুর তা কে জানতো। প্রলয়ংকারী এই ঘুর্ণিপাকের আবর্তে যারা নিজেদের আচ্ছন্ন করে রেখেছিল তারাও হয়তো এভাবে ভাবেনি। এটা তাদের দৃষ্টিতে ছিল এক অবুঝ অনুভূতি । কেনইবা এমন হলো সেই মধুর সম্পর্ক ভেঙে কিভাবে লেকের পানিতে নিতান্ত অসহায়ের মতো ভাসাল এর উত্তর খেঁজে এমন দার্শনিক কে আছে।
:a:a:a:a:a:a:a:a:a:a:a:a:a:a:a:a:a:a:a
ক্ষিপ্ত জনতা গালি দিচ্ছে ধাড়ি মেয়েটা, যে কিনা বাবা মায়ের সম্মান সব ধুলায় লুটালো। এক মুরুব্বী বেশ ঝাঁঝের সাথে বলছেন ‘কি বা হলো, তুই নিজে তো মরলি সেই সাথে পোলাডারেও খাইলি, এখন বাপ মায়ে বুঝবো ঠেলা’। এই মুরুব্বীর কথার ভাবার্থ বোঝার ক্ষমতা আমার ছিলনা তবু এটুকু বুঝেছিলাম তার বাবা মাকে মেয়ের কথা ভেবে একদিকে মুছতে হবে চোখের পানি অন্যদিকে সামলাতে হবে পুলিশ কেস আর আদালত। কারন এই রঙ্গভরা বঙ্গদেশ,যেখানে রঙ্গের নাই কোন শেষ। মানুষের বিপদের দিনে অন্য মানুষ হাসি দেয়। হয়তো গরিলার অট্টহাসির মতো কুৎসিত তবুও হাসি তো । পাশাপাশি মাণুষ কাঁদতেও জানে । তবে মায়াকান্নার পেছনে স্বার্থ জড়িত থাকায় সেটাকে কেমন যেন হায়েনার কান্নার মতো মনে হয়। কিন্তু এটা নাকি নিয়তির নির্মমতা যার উপরে কারও কোন হাত নাই। কিছক্ষনের মধ্যে তাদের আতœীয় স্বজনের অনেকেই এসেছে। তাদের অনেকেই পারলে থুথু দিচ্ছে। বেঁচে থেকে বাবা মায়ের শান্তি হারাম করেছিস আর মরার পরেও ঠিক তাই। তোকে জন্ম দেয়াটাই তোর বাবা মায়ের সবথেকে বড় পাপ। কি হয়েছে কি পেলি তুই। হ্যাঁ ।
রিমির এক চাচাতো ভাই আমাদের ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন । কথার ফাঁকে উনি বলতে শুরু করেন।
হটাৎ করেই পরিচয়। বন্ধুত্বের পরিণতি প্রেম।
আজ দুপুরে বাসায় এসে হটাৎ করেই রিমি বমি করতে শুরু করে। পরে মা বুঝতে পারেন তাঁর মেয়ের কি সর্বনাশ হতে চলেছে। তৃতীয় কোন সদস্যের আগমন সহজেই আঁচ করতে পারেন জামিলা বানু। হাজার যাই হোক এটা বাংলাদেশ আর অবিবাহিত মেয়ের পেটে বাচ্চা বলে কথা। মহাভারত অশুদ্ধ হলে ব্যাপারনা । তবে এটা যে সাক্ষাত সূর্য পশ্চিমে ওঠার শামিল। তাই জামিলা বানুর কঠোর নির্দেশ মেরে ফেলতে হবে। তাতে সহজেই রাজি হয় রিমি। আধুনিক যুগে এটা কিছু না বলেই চালাতে চেয়েছিল ইমন সরল বিশ্বাসে রিমি এটা মেনে নিয়েছিল ঠিকই। কিন্তু অতিরিক্ত বাড় বেড়েছিল ইমনের। এক রিমিতে তার হয়ে ওঠেনি। সে গোপনে সম্পর্ক গড়ে তোলে শিমুর সাথে। আজ অনেকটা আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়ে সে রিমির কাছে। কোন অপরাধ বোধ না নিয়ে ইমন সরাসরি শাসায় মন মানসিকতা একটু উদার করো। কিন্তু সাঁতার না জানা রিমি তৎক্ষনাৎ ঝাঁপ দেয়া পানিতে। অতিরিক্ত উত্তেজনায় সাঁতার না জানার কথা বেমালুম ভুলে গিয়ে রিমিকে বাঁচাতে একই সাথে পানিতে লাফ দিয়েছিল ইমন। তখন এমন কেউ তাদের খেয়াল করেনি। অনেকক্ষন পরে লেকের পানিতে দুটো লাশ ভাসতে দেখা যায়।
রিমির বাবাকে দেখা গেল রুমালে চোখ মুছতে। বেচারাকে কিছু বলার নেই। মেয়ের জন্য তিনি কম করেননি। যাচ্ছেতাই ফলাফল নিয়ে এইচ,এস, সি পাস করার পর কোন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির মুরোদ না হওয়ায় ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয় রিমি। পড়াশুনার চাপ আর নানা দিকে না পেরে দুই সেমিষ্টার ড্রপ করে বসে । কঠোর আইন কানুন অনুসরণ করা ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয় অর্ধচন্দ্র দিলে তার ঠাঁই মেলে এশিয়া প্যাসিফিক এ। তবুও জাতের স্বভাব পাল্টায়নি। মাঝে নতুন কারের বাহানা উঠলেও জলিল সাহেব একমাত্র মেয়ের আব্দার বলে আর না করতে পারেননি। সেই কার নিয়ে বয়ফ্রেন্ড এর সাথে পুরো ঢাকা চষে বেড়ানো ছিল তার গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজ। আজ সেই মেয়ের মৃত্যুতে অনেকটা বেশামাল জলিল সাহেব। অধিক শোকে কেমন পাথর হয়ে গেছেন। একটা ভাবলেশহীন মনোভাব তাকে ঘিরে ধরেছে। আসলে তিনি তাঁর মেয়ের জীবনে কোন না রাখেন নি। তবুও মেয়ের জীবনটাই যখন একটা বড় না হয়ে গেল তাঁর কিছুই করার থাকলো না এই ভেবে তার অন্তরাত্মা বার কেঁপে কেঁপে উঠছে। চেয়েছিলেন মেয়ে হবে অনেক বেশি স্মার্ট হবে, যুগের থেকে কয়েক ধাপ সামনে এগিয়ে থাকবে। চলছিল অনেকটা সেভাবেই গিটার, ড্রামস, ডান্সিং, জুডো, কারাতে কোনটাই বাদ থাকেনি। কিন্তু এতো কিছুর মাঝে একটি বিষয় সে সবার অজ্ঞাতে ধীরে ধীরে খুইয়েছিল তার ছোট্ট একটি শব্দ মনুষ্যত্ব। ইমনের বাবা ইতালিতে থাকেন। বড় ভাই জার্মান । শুধু তার মা থাকেন দেশে। বড় মামাকে ধরে দাঁড়িয়ে তার মরাকান্না নিতান্ত পাষাণকেও টলিয়ে দিতে যথেষ্ট ছিল। কিন্তু এই কান্নার রোল একবার যখন শুরু হয়েছিল আজ অবধি থামেনি। যুগে যুগে এই ইমনদের আত্মায় ভর করে বার বার ফিরে এসেছে।
:t:t:t:t:t:t:t:t:t:t:t:t:t:t:t:t:t:t
রাত সাড়ে সাড়ে এগারটা। আজো চশমা নিতে ভুলে গেছি তাই অনেকটা সাবধানে পথ চলছি। কারন সামনে যা দেখছি তা অনেকটা বাংলাদেশের ভবিষ্যতের মতো ঘোলাটে আর কেমন যেন অবিশ্বাসী এক অবস্থা। ভাবছি আজ রাতে ব্লগে কি পোস্ট দেব। ভিকারুননিসা ট্রাজেডি নিয়ে পুরো দেশ এখন ফুঁসে উঠেছে। অজান্তেই ভাবছিলাম একটা বাচ্চা মেয়েকে পাশবিক নির্যাতন করার পরেও তার মাতৃতূল্য শিক্ষিকা কিভাবে অন্যায়কারীর বিরুদ্ধে না গিয়ে তার পক্ষে সাফাই গাচ্ছে। আমার এই ভাবনার কোন মূল্য নাই। কারণ ক্ষমতা তো ওই হোসনে আরা আর পরিমলদের হাতে তা যেন বেশ জোরের সাথে আমাকে বুঝিয়ে দিতেই প্রচণ্ড এক হোচট খাই। নিচু হয়ে পায়ের দিকে তাকাই। ভাগ্য ভাল কেডস থাকাতে তেমন গুরুতর আঘাত পাইনি তব্ওু আমার ভাবনার জগৎকে টলিয়ে দিতে এই আঘাত যথেষ্ঠ ছিল। আবার উঠে দাঁড়াই রিক্সান না পাওয়াতে হাঁটতে থাকি বাসার উদ্দেশ্যে। ভাবতে থাকি আগামী বিশ বছর পরের বাংলাদেশ কেমন হবে। আমাদের দেশের মধ্যে দিয়ে ভারতের ট্রেন, বাস, ট্রাক, ট্রাম চলবে। আমরা একগ্লাস পানির জন্য হাহাকার করবো। আমাদের দেশে তেল গ্যাসের অভাবে চুলোয় আগুন থাকবে না। হটাৎ পা হড়কে পড়ে যাই। ঝুপ করে অনেক নিচে নেমে যাই। এবার রক্ষা নেই । অসাবধানে ঢাকনাবিহীন ম্যানহোলে ঢুকে গেছি। এইবার ব্যাথা পেয়েছি মারাত্বক। অনেক কষ্টে হাঁচড়ে সেখান থেকে উঠতে পারলেও আমার মাথাটা বনবন করে ঘুরছে। আর দূর্গন্ধে গা গুলিয়ে কেমন যেন বমি আসছে। আমার চারদিকে যেন কেবলি অন্ধকার। এ যেন সাক্ষাত দুই হাজার পঁচিশ সালের ডিজিটাল বাংলাদেশকেই আমি দেখছি। মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পেলেও একটা জিনিস ভেবে একটু স্বস্তি পেলাম ডিজিটাল বাংলাদেশটা কেমন হবে তার একটা কল্পিত চিত্র এখন আমার মাথায়। আর তার পরিবেশ লেগে আছে আমার সমস্ত শরীরে।

উপলদ্ধি পর্ব এক

উপলদ্ধি পর্ব দুই

উপলদ্ধি পর্ব তিন

মোঃ আদনান আরিফ সালিম অর্ণব

ব্লগার, কলামিস্ট, শিক্ষার্থী গবেষক
প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ,
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। 
aurnabmaas@gmail.com