Category Archives: Bangladesh Archaeology

সেন্ট নিকোলাস টলেন্টিনোর গির্জা

aaঢাকার অদূরে অবস্থিত গাজীপুরের গুরুত্ব স্যাটেলাইট টাউন হিসেবে সর্বাধিক। বিশেষ করে সময়ের আবর্তে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এখানে অবস্থিত। পাশাপাশি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ এবং আইআইটির অবস্থান একে দিয়েছে শিক্ষানগরীর সম্মান। তবে হাজার বছরের প্রাচীন নগরী ঢাকার উপকণ্ঠে অবস্থিত এ নগরীর প্রত্ন-ঐতিহ্যকে ছোট করে দেখার অবকাশ নেই। অন্তত জয়দেবপুরের ভাওয়াল রাজবাড়ী ও ভাওয়াল রাজ শ্মশানেশ্বরী, শ্রীপুরের ইন্দ্রাকপুর, কাপাসিয়ার টোক বাদশাহী মসজিদ, পূবাইল জমিদার বাড়ি, কালিয়াকৈরের বলিয়াদি জমিদার বাড়ি, একডালা দুর্গ, টঙ্গীর মীর জুমলা সেতুর পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রথম খ্রিস্ট ধর্মীয় উপাসনা স্থান সেন্ট নিকোলাস টলেন্টিনো চার্চের উপস্থিতি একে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। অন্যদিকে বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদের স্বপ্নঘেরা নুহাশ পল্লী, চান্দনার নাগবাড়ী, আনসার একাডেমি, ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান আর বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক এ শহরকে করেছে পর্যটন বিকাশের এক অপার সুযোগ। Continue reading সেন্ট নিকোলাস টলেন্টিনোর গির্জা

বখত বিনতের মসজিদ

সাম্প্রতিক গবেষণায় হাজার বছরের নগরী ঢাকার ঐতিহ্য নিয়ে অনেক কিছু জানার সুযোগ হয়েছে। ঢাকা শহরে রয়েছে নানা যুগ পর্বের প্রত্ন স্থাপনা। একসময় ঢাকাকে বলা হতো ‘মসজিদের শহর’। বলা বাহুল্য, সাধারণ বিচারে এ শহরে মসজিদের আধিক্যের কারণেই অমন পরিচিতি যুক্ত হয়েছে। প্রকৃত পক্ষে মসজিদ স্থাপত্য সমকালীন সময়ে মুসলিম সমাজের অস্তিত্বের কথাই প্রচার করে। সমাজ ইতিহাস নির্মাণে তাই মসজিদ বরাবর আকর সূত্র হিসেবে গৃহীত। আধুনিক ইতিহাসবিদরা অপ্রতুল তথ্যসূত্রের কারণে একসময় ধারণা করেছিলেন, মোগল আধিপত্য প্রতিষ্ঠার আগে অর্থাৎ সতেরো শতকের আগে ঢাকায় মুসলিম বসতি স্থাপন হয়নি। মোগলরাই ঢাকা শহরের পত্তন করেন এবং মুসলিম সমাজের বিকাশ ঘটান। প্রত্নসূত্র এখন এ ধারণার পরিবর্তন করছে। পনেরো শতকের মাঝ পর্বেই ঢাকায় নির্মিত মসজিদ শনাক্ত করা গেছে। আর সময়ের বিচারে এ পর্বের আদিতম মসজিদের মূল অংশটি বহু সংস্কারের পথ ধরে এখনো টিকে আছে। এটি ঢাকার নারিন্দায় অবস্থিত বখত বিনতের মসজিদ। যদিও অনেক লেখক-গবেষকের অসাবধানী শব্দ ব্যবহারে এটি সাধারণ্যে ‘বিনত বিবির মসজিদ’ নামে অধিক পরিচিত। Continue reading বখত বিনতের মসজিদ

ঘুরে আসতে পারেন ইদ্রাকপুর জলদুর্গ

আনুমানিক ১৬৬০ সালের দিকে বাংলার সুবাদার মীর জুমলা নির্মিত ইদ্রাকপুর দুর্গটি ঢাকার দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে ইছামতী নদীর পূর্ব তীরে মুন্সিগঞ্জ জেলা শহরে অবস্থিত। বর্তমানে নদী দুর্গ এলাকা থেকে অনেক দূরে সরে গেছে এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় জনবসতি গড়ে উঠেছে। নদীপথ শত্রুর আক্রমণ থেকে নিরাপদ রাখতে নির্মিত ইদ্রাকপুর জলদুর্গটি পূর্ব ও পশ্চিমে দু’ভাগে বিভক্ত। পূর্ব অংশ আয়তাকার এবং পশ্চিমের অসম আকৃতির দুটি অংশ মিলিত হয়ে সম্পূর্ণ দুর্গটি নির্মিত হয়েছে। Continue reading ঘুরে আসতে পারেন ইদ্রাকপুর জলদুর্গ

প্রত্নতাত্বিক চিন্তাকাঠামোতে লুই বিনফোর্ডের তাত্ত্বিক ঘরানার প্রভাব

সনাতনী ধারার সাংস্কৃতিক ঐতিহাসিক ধারাকে অনেকটা চ্যালেঞ্চ করেই ১৯৬০ সালের দিকে লুই বিনফোর্ড প্রত্নতাত্বিক চিন্তাকাঠামোতে একটি নতুন দিশার সন্ধান দেন। অতীত সংস্কৃতির ব্যাখ্যাতে সরাসরি বিজ্ঞানের ধারণার ব্যবহারের সাথে সাথে নর্মের বদলে সংস্কৃতিকে একটি প্রক্রিয়া হিসেবে দাঁড় করানোর কৃতিত্ব লুই বিনফোর্ডের। নর্মের মাধ্যমে সংস্কৃতির প্রকৃত চালচিত্র তুলে ধরার ক্ষেত্রে নানাবিদ সমস্যা সৃষ্টির প্রেক্ষিতে বিনফোর্ডের চিন্তাধারা প্রত্নতাত্বিকদের নতুন করে ভাববার পথ করে দেয়। বিনফোর্ড প্রবর্তিত অতীয় সংস্কৃতির ব্যাখ্যাদানের এই পদ্ধতি ইউরোপীয় প্রত্নতাত্বিকদের প্রভাবে পরিচিত হয় নব্য প্রত্নতত্ত্ব হিসেবে।
প্রচলিত সাংস্কৃতিক ঐতিহাসিক ঘরানার প্রত্নতত্ত্ব চর্চার তাত্ত্বিক কাঠামোগত ত্র“টি আর প্রাপ্ত গবেষণা ফলাফলে যুক্তিগত দিকের দুর্বলতা, বিজ্ঞান থেকে দূরত্ব, ফ্যাক্ট ও ফিকশনের দুরত্বের বিচার চিন্তাজাগতিক ও জ্ঞানতাত্ত্বিক ক্ষেত্রে বিনফোর্ডের চিন্তাধারাকে বিকশিত হওয়ার পথ করে দেয়। প্রখ্যাত প্রত্নতাত্বিক কে রাজন এর মতে বিনফোর্ডের ধারণার উপর নির্ভরশীল প্রত্নতাত্বিকরা সংস্কৃতির কয়েকটি মানদন্ডনির্ভর পর্যবেক্ষনের বদলে একটি সংস্কৃতির লালনকারী সমাজের অভ্যন্তরস্থ কার্যক্রম বা গতিশীলতাকে বোঝার চেষ্টা করে থাকেন। এখানে বিজ্ঞাননির্ভর অসুসন্ধান বিশেষভাবে লক্ষনীয়। পাশাপাশি এখানে বিভিন্ন সংস্কৃতিক প্রপঞ্চ সংঘটিত হওয়ার পেছনে বিদ্যমান কারণ সমূহ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টাও করা হয়। একটি নির্দিষ্ট চলক কিভাবে পুরো কালচারাল সিস্টেম বা সংস্কৃতিক ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে এই তাত্ত্বিক ঘরাণার আলোকে কৃত গবেষণাতে তা স্পষ্টত ফুটে ওঠে। এখানে কালচারার ট্রাজিক্ট্রি বা সংস্কৃতির সাংগঠনিক শাখা প্রশাখা সম্পর্কে বোঝার চেষ্টা করা হয়।
বিনফোর্ডের ঘরানার অন্যতম প্রতœতাত্বিক ডেভিড ক্লার্ক সায়েন্স তাঁর বিখ্যাত গবেষণা অভিসন্দর্ভ এনালিটিক্যাল আর্কিওলজিতে বলেছেন ‘‘ প্রতœতাত্ত্বিক গবেষণার ক্ষেত্রে একটি মাত্র সঠিক প্রশ্নোত্ত্বর প্রদান করার চাইতে অনেক সহজ কাজ বেশ কিছু প্রশ্নকরা । এই সকল প্রশ্ন করার মাধ্যমে যে কয়েকটি বিষয় সম্পর্কে একটি ধারণা লাভ করা সম্ভব হয়ে ওঠে তাই প্রতœতাত্ত্বিক গবেষণাকে অনেক বেশি বস্তুনিষ্ঠ, পরিশীলিত, তথ্যনির্ভর, যৌক্তিক ও অর্থবহ করে তোলে। বিনফোর্ডের ঘরানার অন্যতম প্রত্নতাত্বিক জোসেফ ক্যালওয়েল সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত  তাঁর বিখ্যাত গবেষণা প্রবন্ধ দ্য নিউ আমেরিকান আর্কিওলজিতে বলেছেন ‘‘সংস্কৃতিকে একটি ব্যবস্থাহিসেবে দেখতে গেলে অবশ্যই এর অন্তর্গত বিভিন্ন বিষয় বিশেষত পারিবেশিক নিয়ামক, বাস্তুসংস্থান, ও বসতিবিন্যাসের মতো বিষয়কে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে’’। অর্থাৎ আমরা একটি বিষয় স্পষ্টত লক্ষ্য করি যে বিনফোর্ডের প্রভাবে প্রতœতত্ত্বের তাত্বিক ঘরানাতে আমূল একটি পরিবর্তন সাধিত হয়। এ সময়ে প্রতœতাত্ত্বিক সংস্কৃতিকে কোন বিশেষ মানদন্ডের আলোকে গুচ্ছাকারে বর্ণনা না করে প্রতিটি প্রত্নবস্তুকে একটি পৃথক উপাদান হিসেবে বর্ণনার আওতায় আনা হয় যার এক একটি স্বতন্ত্র সংস্কৃতিগত ও অবস্থানগত নির্দিষ্ট প্রত্যয় চিহ্নিত করা সম্ভব। কারণ কোন নির্দিষ্ট নমুনায়িত উপাত্তের আলোকে কোন ঘটনাকে সাধারণীকরণ করে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের প্রতি সারসত্তায়িত প্রত্যয় আরোপিত হলে এই বর্ণণা সর্বদাই পক্ষপাতদুষ্ট ও ভ্রমাত্মক  হতে পারে। কারণ সংস্কৃতির অন্তস্থ প্রতিটি চলকের একটি স্বতন্ত্র কর্মভূমিকা রয়েছে যা স্ব-স্ব স্থানিক কালিক ও বৈষয়িক মানদন্ডে বিশেষ গুরুত্ববহ। জোসেফ ক্যালওয়েল তার এই প্রবন্ধে আরো বলার চেষ্টা করেছেন।
অন্যদিকে প্রতœতাত্ত্বিক তথ্যপ্রমাণ ও ঐতিহাসিক  কল্পকাহিনীকে পাশাপাশি দাড় করিয়ে  ঐতিহাসিক কল্পকাহিনীর সাথে বিজ্ঞানের বাস্তবতার দ্বন্দ্বকে  অনেকটা বিজ্ঞাননির্ভর আলোচনা ও ফিকশনের বৈপরীত্যের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে লুই বিনফোর্ডের ঘরাণার প্রত্নতত্ত্ব চর্চায়।  প্রতœতত্ত্ব ও ইতিহাস কিভাবে একটি স্বীকৃত মহাবয়ানে প্রভাবদুষ্ট হয়ে  ননর্থক অব্যয় হিসেবে পরিগণিত হতে পারে কিংবা একটি রেপ্রিজেন্টেশনের বাস্তবতায় দিবালোকে মতো স্পষ্ট হয়ে চোখে দৃশ্যমান হতে পারে বিনফোর্ডের ধারণার পূর্বে এসকল চিন্তাধারা অনেকটাই অন্ধকারে ছিল।  কোন কোন ঐতিহ্যের আখ্যান বর্ণণার বাস্তবতায়  যথার্থ, তথাকথিত আধুনিক এবং সঠিক বা যৌক্তিক , আর কোন কোনটি ভিন্নার্থ জ্ঞাপক  তা নির্ধারণকারী মানদন্ড সম্পর্কে প্রতœতাত্বিকরা একটি ধারণা অস্পষ্টভাবে হলেও বিনফোর্ডে ধারণাতে আছে।  প্রত্নতাত্বিক ক্ষেত্রে তাত্ত্বিক ঘরানা ও যুক্তিপ্রমানের ভিত্তিতে যা সত্য বলে পরিগণিত হয়ে ওঠে তা হচ্ছে ‘‘বস্তুগত নিদর্শন বা সাক্ষ্য যা আপাত দৃষ্টিতে অবজেকটিভলি ব্যাখ্যা করা সম্ভব বলে মনে করা হলেও লুই বিনফোর্ড এই ধারণাকে অনেকটাই প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলেন। বিনফোর্ড বিজ্ঞাননির্ভর পরীক্ষনের বাস্তবতায় প্রাপ্ত ইতিহাসের প্রমানকে ফ্যাক্ট বলার পক্ষপাতী হলেও একটা বিষয়ে সন্দেহ থেকেই যায় ‘‘ পূর্ণ সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও গবেষক অধিপতিশীল রাষ্ট্রীয় ও জাতিগত মতাদর্শ ও ক্রিয়াশীল অসম ক্ষমতাসম্পর্কের বাইরে কখনই যেতে পারেন না তিনি অবচেতনভাবে হলেও পক্ষপাতদুষ্ট। তিনি তার দৃষ্টিভঙ্গি কিংবা মতাদর্শ বা জ্ঞানের সীমানার বাইরে থেকে আলামত হিসাবে এই ফ্যাক্টসমূহ বিশ্লেষণ করে অতীত সম্পর্কে বিভিন্ন উপাত্ত ও তথ্য হাজির করেন বা করতে পারেন যা অনেকটা কোন প্রতœতাত্ত্বিক আলামতের ভ্রমাত্বক বা অতিরঞ্জিত দৃশ্যায়নে তাকে একরকম বাধ্যই করে। সুতরাং প্রতœাতাত্ত্বিক আলামাতের আলোকে বাস্তবতা বা ফ্যাক্ট কে  নৈব্যাক্তিক এবং সর্বজনীন; স্বাধীন ও সার্বভৌম বলে মনে করার পথ থাকছে না। তবে একটা বিষয় স্বীকার করতেই হবে  আলামতের বিশ্লেষণের সময় আমরা যেটাকে  ফ্যাক্ট হিসেবে মনে করি বা করতে বাধ্য থাকি তা  নিজে একটি স্বশাসিত সত্তা নিয়ে বিরাজ করে যা থেকে বের হয়ে আসা সম্ভবপর হয়ে ওঠে না। লুই বিনফোর্ড এর ঘরাণার তাত্ত্বিকদের চিন্তাধারায়  ফিকশন হলো কাল্পনিক, বাস্তবতা বিবর্জিত অথবা বাস্তবতা দ্বারা প্রভাবিত হলেও তা এককথায়  বাস্তবতার বিকৃতি ভিন্ন কিছু নয়।
বিনফোর্ড এর ঘরানায় এই সকল কাহিনী উপাখ্যান  অর্থ্যাৎ মিথ লিজেন্ড প্রভৃতিকে মানুষের কল্পনাপ্রসূত অবচেতন মনের এক কাকতালীয়  নির্মাণ বলে মনে করা হয়। তবে একটি বিষয় লক্ষনীয় যে মিথের কাঠামোতে যেমন এক অতিলোকিক বা মেটাফিজিক্যাল কুশীলবের আবির্ভাব বা অবতারণা করা হয় কাকতালীয়ভাবে তারাই ঘটনা-ইতিহাসের নিয়ন্তা অথবা প্রভাবক। তবে কালিকতার পরিসরে আমরা কখনই একটি কথা বলতে পারবো না বা নির্দিষ্ট মানদন্ডে সাধারনীকৃত করতে পারবো না কোন সাংস্কৃতিক ট্রেইটস বা প্রপঞ্চ বা তথাকথিত নর্ম আধুনিক রৈখিকতা অনুসরণ করে না, অর্থাৎ তা  যেমন আধুনিক ও সেক্যুলার পরম্পরা কিংবা কার্য-কারণ সম্পর্ক মেনে চলে বাস্তবতার বিচারে তেমনটি হয়ে ওঠেনা । লূই বিনফোর্ড এ দুয়ের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণের পথ হিসেবে  উভয়ের সীমানা ও সংজ্ঞা নির্ধারণ করে পরস্পরের সঙ্গে তুলনামূলক ও বৈপরীত্যমূলক সম্পর্ক নির্ধারণেই থেকে থাকার ঘোর বিরোধী।
সাংস্কৃতিক ঐতিহাসিক ধারাতে মনে করা হতো অতীত সংস্কৃতি আার কিছুই না কিছু নর্মের সমস্টি যার দিবালোকের মতো প্রতিফলন ঘটে ঐ সংস্কৃতির বস্তুগত উপাদানে। কিন্তু অনেকটা হাস্যকর হলেও সত্য এখানে বোঝার কোন চেষ্টা করা হয়নি কোন সংস্কৃতির সকল বস্তুগত উপাদান কখনই অক্ষত অবস্থায় প্রতœতাত্ত্বিকের হাতে এসে পৌছানো সম্ভব নয় ফলে যে একটা কালানুক্রমিক শূণ্যতা সৃষ্টি হয় তা ইতিহাসের বাইরেই থেকে যায়। আর তাদের প্রচলিত ধারণাতে   প্রতœতত্ত্ব যে ইতিহাস পুণর্গঠন করে সেই ইতিহাস যেহেতু বস্তু নির্ভর আর বস্তুকে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বা ফ্যাক্ট হিসেবে তুলনা করা হয় বলে প্রতœতাত্ত্বিক বয়ান, আখ্যান বা ডিসকোর্স প্রশ্নাতীতভাবে ফ্যাক্ট হিসেবে বা বাস্তব হিসেবে পরিগণিত হবে বিধায় প্রতœতাত্ত্বিক আলামতের ভিত্তিতে নির্মিত প্রদর্শিত বা দৃশ্যায়িত বয়ানকেই ইতিহাসের বাস্তবতা বলে মেনে নেয়া ভিন্ন দ্বিতীয় কোন পথ থাকছে না। অন্যদিকে বাস্তবতার নিরীখে গভীর দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষন করলে বিনফোর্ডের ঘরাণার প্রতœতত্ত্ব চর্চাকে অল্পদিনেই একটি  দাপুটে জ্ঞান ও অনুশীলনের মাধ্যম হিসেবে আমেরিকা ও ল্যটিন আমেরিকার মতো দেশগুলোতেক প্রতিষ্ঠা পেতে দেখি যদিও তার বিবরণ-ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের সত্যতা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হতে পারে। তবে অবাক করার মতো বিষয় হলেও সত্য এই তর্ক-বিতর্ককে অবশ্যই ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য প্রমান নির্ভর বৈকি বিজ্ঞান নির্ভর অর্থাৎ ঘুরে ফিরে ওই একই বস্তুর উপর নির্ভর করতে হয়।
বিনফোর্ডের চিন্তাধারা তাত্ত্বিক প্রেক্ষিতে বস্তুর বিশ্লেষনে বিজ্ঞাননির্ভর একটি পদ্ধতি প্রচলন করেন যা খুব দ্রুত একটি দাপুটে ও আধিপত্যশীল ঘরানায় রূপান্তরিত হয়ে উঠে। তবে এখানে একটা বিষয় সুস্পষ্ট ছিলনা  ‘বস্তুগত উপাদানের বিজ্ঞাননির্ভর বিশ্লেষণই পারে  নিরপেক্ষভাবে ও অধিপতিশীল দাপুটে অনুশীলন ও ক্ষমতার প্রভাব মুক্ত  শর্তসমূহর বাইরে থেকে অতীত সম্পর্কে সত্য ইতিহাস উৎপাদন করতে যা অনেকাংশে সঠিক নয়।
হালের প্রতœতাত্ত্বিকরা বিনফোর্ডের প্রবর্তিত এই সকল ধারণার সাথে যে সকল বিষয়ে তর্কের অবতারণা করেছেন তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বাস্তবাতা ও অতিকথনের বা কল্পকাহিনীল ভেদরেখাকে যেভাবে প্রচলিত ডিসকোর্সসমূহে বিবেচনা করা হয় সেটাও বিভিন্ন অবস্থা ও চলকের সাপেক্ষে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। বাস্তবতার এই বিচারে প্রমানিত এই তথাকথিত সত্য কোন কোন ক্ষেত্রে অবাস্তব হয়ে উঠতে পারে আবার এই অতিকথন, কল্পকাহিনী বা  ফিকশন কখনো কখনো  সত্যতার দিক থেকে অনেকখানি এগিয়ে যেতে পারে। প্রতœতত্ত্ব চর্চার ইতিহাসের খেরোখাতায় নজর দিলে আমরা দেখি প্রতœতত্ত্ব, প্রচলিত ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কিত আধিপত্যশীল দাপুটে আখ্যান বা ডিসকোর্সগুলোতে অতীতের ফ্যাক্টনির্ভর যে-সব আখ্যান বা বয়ান চালু আছে সে-গুলো ফিকশনের সঙ্গে সতত অংশীদারিত্বমূলক কোন কোন ক্ষেত্রে আমারা দেখি এগুলো একে অন্যের পরিপূরক। তবে একটি বিষয় স্পষ্টত প্রতীয়মান যে  ইতিহাস, প্রতœতাত্ত্বিক ও নৃবৈজ্ঞানিক পরিমণ্ডলে উপনিবেশ কালীন ও উপনিবেশ উত্তরকালে আধুনিকীকরণ প্রকল্প ও তথাকথিত সেক্যুলারকরণের ইতিহাসের সঙ্গে উপনিবেশকালীন ও পরবর্তী জাতীয়তাবাদী প্রকল্পের আকাঙ্খাগুলোর একটি নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল।

পশ্চিমা দৃষ্টবাদী ও প্রত্যক্ষণবাদী চিন্তার প্রভাবে ইতিহাস বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষভাবে রচনা করা যায় এমন বিবেচনা করার অনুশীলন থেকে উদ্ভূত  ফ্যাকট ও ফিকশনের ধারণায়নের  মাধ্যমে ইতিহাস ঐতিহ্যের  বিনির্মান কিভাবে  বাস্তবতা বিবর্জিত ও অলীক হয়ে ওঠে তা লুই বিনফোর্ডের চিন্তাধারাতে ততটা প্রবলভাবে প্রতিফলিত না হলেও অন্তত বিজ্ঞানের গুরুত্বপ্রদান করার হেতু বস্তুর পাশাপাশি যুক্তিবাদ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে । ফলে তা পূর্বের ন্যায় কাঠখোট্টা নিরস বস্তুর বিবরণের গণ্ডিতেই আবদ্ধ থাকেনি বরঞ্চ কলেবলে বৃদ্দি পেয়েছে।  তবে এর একটি গুরুতর দিক এই যে এখানে বস্তুগত নিদর্শনের সাথে বিজ্ঞানের ধারণার সংযোগেমনে করা হয় যে ইতিহাসের বিবরণেও একনিষ্ঠ সত্যের প্রতিফলন সম্ভব যা পরবর্তিকালের চিন্তকদের কাছে কঠো সমালোচনার স্বীকার হয়। সাম্প্রতিক বিশ্বের কিছু স্থানে প্রতœতাত্ত্বিক আলামতকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা দেখে অনেকটাই হতাশ হতে হয়। উদাহরণ হিসেবে নুহ আঃ এর নৌকা আবিষ্কার, ইহুদীবাদীদের হাতে সলোমন  টেম্পল বা টেম্পল মাউণ্ড দখলের ঐতিহাসিক বৈধতা প্রদান, ভারতে চরমপন্থি মৌলবাদীদের হাতে বাবরী মসজিদ এর ধ্বংস অনেককেই হতাশ করেছে। এর মাধ্যমে একটা বিষয় স্পষ্টত ফুটে উঠেছে বৈজ্ঞানিক ইতিহাস যখন রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয় তার ফলাফল কতটা মারাত্বক হয়ে ওঠে। আর ধর্মের বানিজ্যিক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এই প্রতœতাত্ত্বিক ও বৈজ্ঞানিক অনুজ্ঞা বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত হলে তার পরিণাম কতটা অজ্ঞাতকুলশীল আর ক্ষতিকর হবে তা বোধকরি সাধারণ বোধশক্তিসম্পন্ন মানুষই জানতে পারবেন। যার ফলে বিনফোর্ড প্রবর্তিত এই বিজ্ঞান নির্ভর প্রতœতত্ত্বচর্চাও অনেকাংশে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ওঠে এই বিচারে যে  অ-বিকৃত বা বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ ইতিহাস রচনা করা সম্ভব নয় তা যেকোন আঙ্গিক হতে পক্ষপাতদুষ্টতা মুক্ত থাকতে পারেনা। এক্ষেত্রে অনেকে বিনফোর্ডকে চ্যালেঞ্চ করে যদি বলতে চান বিজ্ঞানের ব্যবহারে সুনির্দিষ্ট ইতিহাস যখন পাওয়অ যায়না  তবে বিনফোর্ডের পদ্ধতির নতুনত্ব বা বিশেষত্ব কোথায়। আসলে বিনফোর্ড যে বিজ্ঞান নির্ভর একটি  সুনির্দিষ্ট পদ্ধতির ধারণা প্রবর্তন করেছিলেন তা প্রত্যক্ষণবাদী চিন্তাকাঠামো অনুসরণ করে অতীতের নৈর্ব্যক্তিক, বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ পুনর্গঠন সম্ভব না হলেও ইতিহাসের খেরোখাতায় একটি নতুন পাতার আবির্ভাব ঘটাতে সক্ষম ছিল এটা নিদ্বিধায় বলা যায়।
প্রচলিত  ইতিহাস ও প্রতœতত্ত্ব কালনির্দেশকরণ ছাড়া কোন কালেই তার অভীষ্ট লক্ষে গমন করতে পারেনা। শাস্ত্র হিসাবে ইতিহাস ও প্রতœতত্ত্বে এই সময়কাল বা কালিকতার প্রশ্নটি সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ এখানে বিজ্ঞানের ধারণার প্রয়োগ এর ফলে অনেক আজগুবি ধারণার উপর ভিত্তি করে প্রমাদ গোনার প্রহরের যে একরকম শেষ হয়েছে তা নিদ্বিধায় বলা যায়। সময়কালের নির্দেশ ছাড়া প্রতœতত্ত্ব ও ইতিহাসকে অস্বাভাবিক বলে মনে করার বাস্তবতায় লুই বিনফোর্ড প্রদত্ত ঘরানার বিজ্ঞান নির্ভর কালনিরুপণ পদ্ধতিগুলো অনেক সহায়ক হয়েীছিল এটা বলার অপেক্ষা রাখেনা যদিও তার পরম অবস্থান নিয়ে বিতর্কের অবকাশ রয়েছে। অনেকটা বিনফোর্ডের বিজ্ঞান নির্ভর কাঠামোকে অনুসরণ করেই আধুনিক কালিকতা বা সময়ের ধারণাকে নির্দেশ করা হয় একটি রৈখিক কাঠামো অনুসরণ করে যেখানে সময়কে ‘সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া’, বিমূর্ত, সংখ্যার মাধ্যমে মাপনযোগ্য ও প্রকাশযোগ্য ও নির্গুণ একটি সেক্যুলার প্রপঞ্চ হিসাবে মনে করা হয় যা আপাতদৃষ্টিতে নিরপেক্ষ মনে হলেও অনেকাংশে সাধারণীকৃত। বিনফোর্ড প্রবর্তিত  এই আধুনিক ইতিহাসের ধারণার আরেকটি সারবত্তাগত বৈশিষ্ট্য হলো ‘‘ ইতিহাস নির্মাণ’’ যা একে অনেকাংশে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই পারে।     ফলে ‘অতীত’ সম্পর্কিত আখ্যান হয়েও ইতিহাস হয়ে ওঠে ‘বর্তমানকে’ ‘সচেতন সক্রিয়তার’ মাধ্যমে পরিবর্তন করে ‘ভবিষ্যতকে’ পূর্বাভাসযোগ্য মনে করার পরিসর যেখানে ব্যক্তির চিন্তাকাঠামো আর রাজনৈতিক প্রেক্ষিত বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই এককথায় বলতে গেলে বিনফোর্ডের এই বিজ্ঞাননির্ভর ইতিহাসের এই আধুনিক অবস্থানকে সিনথেসিস বা সংশ্লেষ হিসেবে অভিহিত করা যেতে পারে যা বিভিন্ন জাতি-রাষ্ট্রের ধারণাকে বাস্তব রূপ দিতে যেমন গুর“ত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, তেমনি নতুন নতুন জাতি-রাষ্ট্রের শর্তাধীনে এই জ্ঞানই জাতি-রাষ্ট্রের এবং দাপুটে ডিসকোর্সের অবিভাজ্যতা ও আধিপত্যকে শক্তিশালী করে তুলেছে। যার স্পস্ট উদাহরণ হিসেবে আমরা ভারতবর্ষ বা আফ্রিকার উপনিবেশ উত্তরকালের প্রতœতত্ত্ব ও ইতিহাস চর্চার কথা বলতে পারি। অথাৎ ইতিহাসের প্রাচীনত্বের প্রতি লালসা কিংবা একটি স্বর্ণযুগের ধারণা ইতিহাসকে চরম মাত্রায় বিকৃত না করুক বিতর্কিত করে তা আর বলার অবকাশ রাখে না।
তবে প্রতœতত্ত্ব ও ইতিহাসের গবেষণাতে মানুষের সংস্কৃতি ও পরিবেশের মধ্যবর্তী সম্পর্ক অনুধাবনের চেষ।টা প্রথমত লুই বিনফোর্ডের হাত ধরেই চালু হয়। সাংস্কৃতিক পরিবর্তন অনুধাবনের জন্য এ সকল আন্তঃসম্পর্ক বোঝা বিনফোর্ড পরবর্তিকালের চিন্তকদের কাছে অনেকটাই জরুরী হয়ে উঠতে দেখা যায়। অতীতের আদর্শগত ও প্রতীকী বিষয় বাদে এই সকল বিষয় পর্যবেক্ষন ব্যাখ্যা ও বিশ্নেষণে লুই বিনফোর্ডের ধারণা অনেক বেশি গুরুত্ববহ হয়ে ওঠার অবকাশ পায়। এখানে বহুল আলোচিত পরবর্তিকালে পশ্চিমা জ্ঞানাতাত্ত্বিক কাঠামোতে অনেক বেশি দাপুটে হয়ে ওঠা          চিন্তাকাঠামো  হিসেবে আমরা সিস্টেম থিররির কথা বলতে পারি। এই সিস্টেম থিওরীর অধীনে একটি সামাজিক সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে একটি ব্যবস্থার অধীনে বিভিন্ন মানুষের আচরণ, জীবনধারা, প্রচলিত প্রথা ও অনুশাসন প্রভৃতির পেছনে বিদ্যমান কারনগুলোর ব্যাখ্যাদান অনেক বেশি সহজ হয় । এখানে প্রকৃত অর্থে সংস্কৃতিকে একটি উন্মুক্ত বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হয় যেখানে বাইরের বিভিন্ন প্রভাব ও প্রেরণা জড়িত থাকবে।  এই সকল বিষয় বিবেচনা করে লুই বিনফোর্ড সংস্কৃতির তিনটি উপব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেন।
    সামাজিক সংগঠন সংশ্লিষ্ট
     বিজ্ঞান প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট
    প্রথা ও আদর্শ সংশ্লিষ্ট
আমরা বিষয়গুলোর আবর্তনের প্রেক্ষিতে প্রতœবস্তুর প্রচলিত আঙ্গিকে বহুল ব্যবহৃত আর্টিফ্যাক্টের সাথে যোগ হতে দেখি টেকনোফ্যাকট, সোসিও ফ্যাকট, আইডিও ফ্যাকট, জিও ফ্যাকট, ইকো ফ্যাক্ট সহ নানাবিধ বিষয়। বৈষয়িক এই পরিবর্তন প্রতœতত্ত্ব চর্চার তাত্ত্বিক ঘরাণাকে পরোক্ষভাবে বেশ খানিকটা প্রভাবিত করেছিল।
পাশাপাশি লুই বিনফোর্ড বিভিন্ন প্রতœতাত্ত্বিক প্রেক্ষিত হতে প্রাপ্ত প্রতœতাত্ত্বিক উপাত্ত ও তথ্যের বিণ্যাস ও কার্যকারন সম্পর্ক নিয়ে  বেশি আগ্রহী ছিলেন। যার ফলে অতীত পরিবেশ সম্পর্কে জানার আগ্রহ তৈরী হয়। প্রতœতাত্ত্বিক গবেষণাতে যুক্ত হয় ভূ-তত্ত্ব, প্রাণিবিজ্ঞান, উদ্ভিদ বিজ্ঞান, পরিবেশ বিজ্ঞান,পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, ভূগোল প্রভৃতি বিষয়।
আর সেই সাথে নৃবিজ্ঞানের তাত্ত্বিক দিক প্রতœতাত্ত্বিক উপাত্ত্বের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণে বিশেষ গুরুত্বলাভের এক পর্যায়ে আমরা অনেকটাই নৃবিজ্ঞান এর তত্ত্ব নির্ভর জাতি প্রতœ তত্ত্বকে প্রতœতাত্ত্বিক ব্যাখ্যাদানের বিশেষ পথ হিসেবে গৃহীত হতে দেখা যায়। আর সমরূপতার তত্ত্বেরউপর নির্ভব করে এই একই সাথে প্রচলন করা হয় পরীক্ষামূলক প্রতœতত্ত্বকে। সুতরাং বিনফোর্ডের চিন্তাধারা প্রতœতাত্কি গবেষণার ক্ষেত্রে শুধু একটি প্রভাব বিস্তার করেনি বরঞ্চ এটি প্রতœতাত্ত্বিক গবেষণাকে একটি নতুন পথের সন্ধান দিয়েছে।
মোঃ আদনান আরিফ সালিম অর্ণব
Archaeology Of Humankind

Ruins of the Somapura Mahavihara at Paharpur – Rajshahi, Bangladesh (a UNESCO World Heritage Site).

A number of monasteries grew up during the Pāla period in ancient Bengal and Magadha. According to Tibetan sources, five great Mahaviharas stood out: Vikramashila, the premier university of the era; Nalanda, past its prime but still illustrious, Somapura Mahavihara, Odantapurā, and Jaggadala. The five monasteries formed a network; “all of them were under state supervision” and their existed “a system of co-ordination among them . . it seems from the evidence

that the different seats of Buddhist learning that functioned in eastern India under the Pāla were regarded together as forming a network, an interlinked group of institutions,” and it was common for great scholars to move easily from position to position among them.

The excavation at Paharpur, and the finding of seals bearing the inscription Shri-Somapure-Shri-Dharmapaladeva-Mahavihariyarya-bhiksu-sangghasya, has identified the Somapura Mahavihara as built by the second Pala king Dharmapala (circa 781-821) of Pāla Dynasty. Some clay seals from the ruins bear the inscription Shri-Somapure-Shri-Dharmapaladeva-Mahavihariyarya-bhiksu-sangghasya.[7] Tibetan sources, including Tibetan translations of Dharmakayavidhi and Madhyamaka Ratnapradipa, Taranatha‘s history and Pag-Sam-Jon-Zang, mention that Dharmapala’s successor Devapala (circa 810—850) built it after his conquest of Varendra. The Paharpur pillar inscription bears the mention of 5th regnal year of Devapala’s successor Mahendrapala (circa 850—854) along with the name of Bhiksu Ajayagarbha. Taranatha’s Pag Sam Jon Zang records that the monastery was repaired and renovated during the reign of Mahipala (circa 995—1043 AD).[7]
The Nalanda inscription of Vipulashrimitra records that the monastery was destroyed by fire, which also killed Vipulashrimitra’s ancestor Karunashrimitra, during a conquest by the Vanga army in the 11th century, assumed to be an army of the Varman rulers. About a century later Vipulashrimitra renovated the vihara and added a temple of Tara. The restoration work was alluded to as jagatang netraika vishrama bhuh (a singular feast to the eyes of the world).

3d Model of Paharpur

Atisha Dipankar Srijnan stayed here for many years and translated the Madhyamaka Ratnapradipa into Tibetan. Over time Atish’s spiritual preceptor, Ratnakara Shanti served as a sthavira of the vihara, Mahapanditacharya Bodhibhadra served as a resident monk, and several other scholars spent some part of their lives at this monastery including Kalamahapada, Viryendra and Karunashrimitra.. Many Tibetan monks visited the Somapura between 9th and 12th centuries
During the rule of the Sena dynasty, known as Karnatadeshatagata Brahmaksatriya, in the second half of the 12th century the vihara started to decline for the last time. It was finally abandoned during the 13th century, when the area came under Muslim occupation.One scholar writes, “The ruins of the temple and monasteries at Pāhāpur do not bear any evident marks of large-scale destruction. The downfall of the establishment, by desertion or destruction, must have been sometime in the midst of the widespread unrest and displacement of population consequent on the Muslim invasion.”
Some photo graphs of this site given Below .

Paharpur Main Architecture
According to the Bengali Vocabulatory, the name Paharpur (Pahar = hill, pur = locality) means a locality of hill. It is a village in Badalgachi Upazila of Naogaon District. The nearest railway station os Jamalganj that lies on the Khulna-Parvatipur rail tract and is connected with Paharpur by a 5 km long brick metalled bye-way. Paharpur can also be reached from its nearest airport, Sayedpur, following a metalled road via Joypurhat. The village contains the ruins of a Buddhist monastery which was called Somapura Mahavihara (the great monastery situated in the locality of moon) in the ancient Buddhist World. It is now a World Cultural Heritage (BGD. 292)
The monastery is square in plan, being 281m on each side. Built by Dharmapala (781-821 AD) the second ruler of the Pala dynasty, and reconstructed at least twice by his descendants, each of its with has thick exterior wall with two entrance provisions on the north and one in the east. Besides, there has a row of monastic cells, fronted by a running corrider, abutting the exterior wall. Some of the cells contain solid pedestals. There has also a sub-worshipping point in the mid-most part of each wing excepting the north one. Each worshipping point, excepting the southern one, has a staircase connection with the monastery courtyard in front. In the center of the open courtyard of the monastery there stands the residual vestige of a four-faced shrine.
The central shrine is a terraced structure springing from a cruciform ground plan and expanding from a mid-pile of square configuration. The upper terrace has in its each side a sanctum fronted by an ante-chamber with circumambulatory passage around. Each of the second and first terraces has nothing but a circumambulatory passage. The passages of the lower terrace, however, is now covered under recently accumulated soil. Its wall has 63 niches at plinth level, each being provided with a stone sculpture. Whereas the unplustered wall surfaces of the lower two terraces are decorated with friezes containing terracotta plaques showing different scenes. The cornices of all terraces are turgent and lavishly relieved with carved bricks showing chain, petal, pyramidal, dental, net and lozenge motifs. Moreover, at the juncture of the cornices there are stone gargoyles ended in grinning lion faces.
The courtyard around the central shrine is dotted with several units of straggling structural ruins. Of them, Panchavede > a group of five votive stupas>near the south-eastern comer, a kitchen towards west of Panchavedi, a long paved dinning arrangement towards north-west of Panchavedi and a model of the central shrine on the north of Panchavedi are a few to note. The northeast comer is also occupied by another group of structures, They appear to have been related to office establishments. Close to the basement of the central shrine a number of wells, votive stupas, vedika cruciform model etc. are noticed. The western half of the courtyard is relatively barren in structural finding.
A good number of objects cultural have been salvaged from Paharpur, They include sculptural pieces, terracotta plaques, pottery, domestic tools, ornaments, coins, seals, sealings, votive stupas etc. They are now housed in Asutosh Museum Kolkata, Bangladesh National Museum , Varendra Museum, Paharpur Museum and other site museums in Bangladesh.
Of these antiquities sculptural pieces as well as sculptured plaques are artistically most alluring. Most of the sculptural pieces are medium in size and a few are smaller. All of them are wrought on stone save a few of metal. Stucco sculptural pieces are, however, not altogether lacking. Among the metal sculptures, the fragmentary bust of a Buddha is worth noted because of its artistic excellence. Only one stone sculpture is related to Mahayana order, the remaining being Hindu. In dating parlance, they may be placed in the 7th-12th AD time-bracket.
The next group of alluring art objects is represented by terracotta plaques. They are at least 2800 in number and appear to be contemporaneous to the 1st constructional period of the Pala monastery. Their sizes vary between 40cm x 30cm x 6cm and 18cm square. They depict diverse scenes reflecting the then socio-political, economic and martial aspects.

Md. Adnan Arif Salim Aurnab
Archaeology of Humankind

Ancient Remains of Mahasthangarh [Bogra]

Bangladesh is a land of Archaeological heritage as a number of dynastic rulers rules here representing their glory in the Architectural and Cultural monuments .Mohasthangarh is one of the main attractions in north Bengal. It was the capital of Kingdom of the Maurya, the Gupta and the Sena Dynasty. Here we can find out the cultural layers in a complex version. As resulting long periods cultural succession this Archaeological center flourished in Several aspect.
This is the ancient archeological and historical which was, established in 2500 BC.
It is the oldest archaeological site of Bangladesh is on the western bank of river Karatoa 18 km. north of Bogra town beside Bogra-Rangpur Road. The spectacular site is an imposing landmark in the area having a fortified, oblong enclosure measuring 5000 ft. by 4500 ft. with an average height of 15 ft. from the surrounding paddy fields. Beyond the fortified area, other ancient ruins fan out within a semicircle of about five miles radius. Several isolated mounds, the local names of which are Govinda Bhita Temple, Khodai Pathar Mound, Mankalir Kunda, Parasuramer Bedi, Jiyat Kunda etc. surround the fortified city.

This 3rd century archaeological site is still held to be of great sanctity by the Hindus. Every year (mid-April) and once in every 12 years (December) thousands of Hindu devotees join the bathing ceremony on the bank of river Karatoa.

A visit to Mahasthangarh site museum will open up for you wide variety of antiquities, ranging from terracotta objects to gold ornaments and coins recovered from the site. Now it is one of the major tourist spots maintained by Bangladesh archeological Department.

[Mohasthan Musium]

You can go to Mohasthanagar from Bogra town, 10 km. away. Don’t forget to visit Mohasthangar museum while visiting Mohasthangar. Mohasthan Buddhist Stambho is another attraction for the tourists; it is locally called as Behula’s Basar.

 
For more you can get help from 
Banglapedia The National Encyclopedia of Bangladesh.
 
Some Photographs for this Site redirected from Wikipedia.
 
Ramparts of Mahasthangarh citadel        
 
Gokul Medh
 
Lakshindar Behular Basar Ghar at Gokul
 

Md. Adnan Arif Salim Aurnab

Wonderful Medival Architectural Monument of KANTAJI’S TEMPLE – DINAJPUR

Kantajee’s Temple is in Dinajpur district. It is the most ornate among the late medieval temples of Bangladesh is the Kantajee’s temple near Dinajpur town, which was established in the year 1722 by Ram Nath, son of Maharaja Pran Nath .

Recent View of kantazi Temple

The temple, a 51′ square three storied edifice, rests on a slightly curved
raised plinth of sandstone blocks, believed to have been quarried from the ruins of the ancient city of Bangarh near Gangharampur in West Bengal . It was originally a navaratna temple, crowned with four richly ornamental corner towers on two stores and a central one over the third stored.

Original view of Kantazi Temple

Unfortunately these ornate towers collapsed during an earthquake at the end of the 19th century. ln spite of this, the monument rightly claims to bathe finest extant example of its type in brick and terracotta, built by Bengali artisans. The central cells is surrounded on all sides by a covered verandah, each pierced by three entrances, which are separated by equally ornate dwarf brick pillars, Corresponding to the three delicately cusped entrances of the balcony, the sanctum has also three richly decorated arched openings on each face. Kantaji’s Temple is an earthquake at the end of the 19th century. In spite of this, the monument rightly claims to bathe finest extant example of its type in brick and terracotta, built by Bengali artisans. The central cells is surrounded on all sides by a covered verandah, each pierced by three entrances, which are separated by equally ornate dwarf brick pillars, Corresponding to the three delicately cusped entrances of the balcony, the sanctum has also three richly decorated arched openings on each face. Every inch of the temple surface is beautifully embellished with exquisite terracotta plaques, representing flora fauna, geometric motifs, mythological scenes and an astonishing array of contemporary social scenes and favorite pastimes. The beautiful wall paints of this temple tell us the story of Ramayan-Mohabharat, Krishna-Lila and Dev-Devies.
Md. Adnan Arif Salim Aurnab

Recently unearthed First ever Buddhist Lotus Temple in Wari Bateshwar, Narshingdi , Bagladesh.

In Wari Bateshwar of Narsingdi, archaeologists have recently excavated a 1,400 year old Lotus Temple, the first proof of flourishing of Buddhism in the region.
Archaeologists excavate the 1,400 year old Buddhist Lotus Temple at the Wari Bateshwar dig in Narsingdi

The brick built temple constructed around seventh or eighth century
as evidenced by its structure and the size and shapes of the bricks and other finds excavated at Mandirvita at Dhupirtek of Shibpur in the district suggests existence of a Buddha Vihara there, they said.

“This is the first ever proof that Buddhism flourished and was practised in Wari Bateshwar region of Madhupur tract,” said Prof Sufi Mostafizur Rahman, who is leading the excavation team comprised of researchers from archaeological research centre Oitihya Onneswan, teachers and students of archaeology department of Jahangirnagar University.
According to a copper plaque found in 1885 at Ashrafpur, 7km from Mandirvita, King Devakhadga had donated land to four Viharas and Viharikas in the area.
“If we take the plaque into account, Dhupirtek might be one of these four sites,” said Mostafizur Rahman.
The temple also indicates different phases of ancient settlement in the region dating back to 450 BC.
In 2001, examination of charcoal samples confirmed the existence of human habitation and industry in Wari Bateshwar around 450 BC. Archaeologists think the civilisation lasted for 500 years.
The archaeology team had excavated a small portion of the temple last year. The recent excavation has unearthed the perfectly square brick built structure.
The excavators’ claim of the structure to be a Buddhist Lotus Temple was confirmed when they found an eight petal lotus made of dressed red bricks embedded on an altar.
In Buddhism, the lotus padma is a very important symbol of many aspects of the path to enlightenment complete purification of the body, speech and mind, and the blossoming of wholesome deeds in liberation.
The Buddha is often depicted as sitting on a fully blossomed lotus.
The red lotus signifies the original nature and purity of the heart.
Remnants of seven more brick built lotuses were also found during the excavation.
A 70cm circumambulation path (pradakshinpatha) was also found around the temple.
The lotus embedded brick built altar is above the southern wall of the temple, which was used as the main temple at an earlier time, showing that the altar was built later.
The team of archaeologists is now working to determine how long the temple survived in each phase and why it was destroyed and rebuilt.

“We want to preserve the temple as we find it, using the same materials used for its construction, showing the phases of change the temple underwent,” said deputy team leader Mizanur Rahman. “Unfortunately, we are under financial constraints but our work requires more research and excavation.
 From: The Daily Star
Md. Adnan Arif Salim Aurnab
Archaeology of Humankind

Archaeological Remains of Wari Bateshwar

Bric Structure

According to Banglapedia Wari-Bateshwar  a significant archaeological site in Bangladesh. Located three kilometres west of Belabo thana of Narshingdi district, Wari (Wari) and Bateshwar (Bateshvar) are two contiguous villages long known for being the find-spot of silver punch-marked coins in Bengal. The villages are situated on the Pleistocene flat surface of the eastern Madhupur tract. A small dried-up river, called Kayra, flows in an east west direction on the northern side of the villages. The landscape of the area suggests that during an early historic period the old Brahmaputra river used to flow near the village. The river has now shifted a few kilometres eastward. The Meghna flows only a few kms to the south of this area and the Arial Khan flows into it. The location of the two villages on a comparatively high, flood-free ground; their proximity to the old Brahmaputra, and access to the Meghna add significance to the site. Continue reading Archaeological Remains of Wari Bateshwar

তিন বন্ধুর বাদরামি ও চাইনিজ মোবাইলের খপ্পরে দুই লুল বড় ভাই

যেখান থেকে শুরু
তখন সবে ভার্সিটিতে প্রথম বর্ষের ছাত্র । আমি আমার বন্ধু ফয়সল আর পলাশ চুপচাপ বসে আসি আমাদের ভাংগাচোরা ছোট খাট টি এস সির সামনে। সবে ব্লগিং শুরু করেছি । আমার বন্ধু ফয়সল এর মাথায় আবার একটু গিরিংগি ভাল খেলে। আমি আর পলাশ দুইজনই একটু নিরীহ টাইপের ।

নিরীহ হলে হবে কি। শয়তানিতে আমরা কেউ কারো থেকে কম যাই না । আজকে রাতে কি পোস্ট দেয়া যায় হটাত পলাশ প্র্রশ্ন কর।
আমি হা করে তাকিয়ে থাকি। ফয়সল রেগে গিয়ে কিরে তোদের কি খাইয়া দাইয়া কোন কাম নাই এই পোস্ট দেয়া ছাড়া

যাহোক তখন হটাত চাইনিজ মোবাইল গুলো বাজারে আসতে শুরু করেছে । এম পি থ্রি , ফোর ক্যামেরা সবই আছে। ফয়সলের জাপান প্রবাসী মামা ওকে একটা গিফট করেছে আমি ওর সেটটা হাতে নিয়ে গান শুনছি। হটাত দেখি কি ওর মোবাইলে কন্ঠস্বর পরিবর্তন করে কথা বলা যায়।

আমি ফয়সলকে দেখালাম দোস্ত পাইছি
আজ রাতে আর ব্লগামু না। মজাক লমু আমাদের বড় ভাইগোরে পচামু
যেই কথা সেই কাজ।
প্রথম দিন শুরু হলো বাড়ীর মধ্য থেকেই
টার্গেট শিয়াল পণ্ডিত । কিন্তু হাজার হলেও পণ্ডিত দ্বিতীয় রাইতেই ধরা খাইলাম

পরদিন টার্গেট সিংগাপুর প্রবাসী স্বপ্নকুটির ভাই। হাজার হলেও উনার মাথায় ইন্জিনের মতো বুদ্ধি উনারে চার পাচদিন জ্বালাইতে পারছিলাম । এরপর যথারীতি ধরা খাইলাম

এরপর মাসউদ ভাই । বেচারা আসলেই নিরীহ মাইয়্যা লোকের স্বর শোনার পর আর কথাই কননাই

এরপর মাহবু্ব ভাই। বলে আমি মুরুব্বি লোক। আমার এক পা কবরে এক পা ডাংগাতে। মা আমারে ফোন দিছ কেন

জারীর ভাই। কয় তোমার আব্বারে কইয়া তাড়াতাড়ি বিয়ার ব্যাবস্থা করতে হবে। মাইয়্যাপাইন ইচড়ে পাকছো সব । আমার খোজে অনেক পোলাপাইন আছে

আমরা ও তিন জনই ছিলাম সাক্ষাত ইবলিশ এর এক মায়ের পেটের আপন তিন ভাই। আমরাও দমবার পাত্র না।
আমাদের এবারের টার্গেট ব্লগের বিখ্যাত কবি গুল্লা ভাই আর লাফাংগা প্রোফাইল পিকচারের জনক লিংকন ভাই। এইবার যা চাইছি তাই পাইছি ।
আমরা তিন শয়তান তখণ তো মনে হয় বাঙলাদেশের বিশ্বকাপ ক্রিকেট জেতার আনন্দ উপভোগ করছি। যাহোক লিংকন ভাই এর সাথে যা ঘটে তা না বলে আর পারছি না।
প্রথম উদ্যোগ
পলাশ ফোন দেয়!!!!
আসসালামু আলাইকুম, ভাইয়া
হ্যালো কে বলছেন প্লিজ?
-আমি লিংকন।
আপনি
আমি সুবর্ণা
এক্সট্রিমলি সরি ভাইয়া। ভুল হয়ে গেছে।আমি আমার বন্ধু শাওনকে মিসকল দিতে গিয়ে ভুলে আপনাকে দিয়ে ফেলেছি।
আপনি ভুল বুঝবেন না। আপনি মাইণ্ড করেন নি তো ???
-না না কোন ব্যাপার না :।
আচ্ছা রাখি ভাইয়া
-রেখে দিবেন?
ভাইয়া আম্মু আর বড় ভাইয়া আজ তো বাসায় । আজ শুক্রবার তো। বেশীক্ষন কথা বললে বকা দেবে
– আপনি কিচ্ছু মনে করবেন না। আমি কিন্তু একদম মাইন্ড করি নি।

ঠিক পনের মিনিটের মাথায়
পিপ পিপ পিপ….
এসএমএস।
‘সুবর্ণ আপনি কি কখনো আনপার কন্ঠস্বর নিজে শুনেছেন ? আমার কাছে আপনার কথাগুলো ন্যান্সি আনিলার গানের চেয়েও ভালো লেগেছে ।এই একবরের ফোনকলেই আমি আপনার ফ্যান হয়ে গেছি
বলুন আমি কখন আপনাকে ফোন দিতে পারি।
আপনার তখন ক্যন্টিনে চা খাচ্ছিলাম । ক্যান্টিনের বিল চুকিয়ে বাইরে বের হলাম।
তিন জন মিলে শলাপরমর্শ করে মেসেজ রিপ্লে করলাম।
ঠিক সকাল সাড়ে আটটাতে কল দিবেণ !!!!
কারণ তখন আমাদের ক্লাস শুরু হওয়ার এক্কেবারে পূর্ব মুহূর্ত।
আমরা তিনজন একসাথে মজা নিতে পারি সহজেই।

এভাবে আমাদের বদমায়েশি তিন চার দিন হয়ে গেছে। আমরা তো মনে হয় ক্রিকেট বিশ্বকাপ বাংলাদেশের ঘরে আসলে যেমন আনন্দ পেতাম তেমন মজায় আছি।

আমরা ক্লাস শেষে আড্ডা মারার পর আমি আমার বাসায় চলে আসলাম । পরদিন টিউটোরিয়াল ভাবলাম কিছু একটা পড়া দরকার ।
আর ফয়সল গেল ওর বাসাতে ।
বিপত্তিটা বাধলো তখন
কোপাসামসু রিংটোন বেশ কিছুক্ষন বাজার পর ..
এই প্রথম বার রিসিভ করলো ফয়সল।

হ্যালো লিংকন!!কেমন আছ তুমি ??
-ভালোনা। জানো আজকে আমার কিচ্চুটি ভাল লাগছে না্।
কেন কি হয়েছে লক্ষীটি বলই না।
-তুমি আজ সারাদিনে একবারও কল দাওনি তাই আমার মন খারাপ।
সরি তুমি মাইণ্ড কইরো না । আমার মোবাইলে ব্যালেন্স ছিলনা।
– ছি ছি এটা একটা কথা হলো!! তুমি আমাকে জানাও নি কেন ?
আমার কেমন যেন ইচ্ছা করেনি, তাছাড়া তুমি আবার কি ভাব তাই।
আজকে ব্যালেন্স না ঠিক করতে পারলে আমার ফোন বন্ধ হয়ে যাবে।
আমি ভাইয়াকে বললাম। ভাইয়া বললো আম্মুকে । আম্মু রেগেমেগে বললেন ।

ঠিক হয়েছে । সারাদিন লেখাপড়া নাই খালি বকর বকর করা।আম্মু তখন আব্বুকে বলে দিল আব্বুও যেন আমার কার্ড না রিচার্জ করে দেয়। এখন আমি কি করবো । আমার মনটাও জান খুব খারাপ। আজ রাত বারোটাতে আমার মেয়াদ শেষ হবে । এইটাই মনে তোমার সাথে শেষ কথা বলা। কোন ভুল ত্রুটি থাকলে ক্ষমা করো।
না না না লক্ষীটি অমুন অলুক্ষুনে কথা বলতে নাই। তুমি আমার সাথে কথা না বললে আমি কি নিয়ে বাচবো

আমি এক্ষুনি আমার বন্ধু গুল্লাকে বলে দিচ্ছি । ও তোমার ফোনে কার্ড ভরে দেবে। আর আমি ভাবছি এত দুর দেশের ফোনে তোমার ফোনকল আমার ভাগ্যই নিয়ে এসেছে। আমি সত্যিই খুব লাকি।
যথারীতি লিংকন ভাইয়া গুল্লা ভাইকে কোন কাহিনী না বলে শুধু নম্বরটা দিয়ে বলেন ।
দোস্ত তুই এই নম্বরে ৫০০ টাকা লোড করে দে। আমি তোকে পাঠাচ্ছি।
গুল্লা ভাবেকাহিনীটা কি
একটু খানি গুতিয়ে দেখি
গুল্লাও টাকা দিল কিন্তু নম্বরটা সেভ করে রাখলো। সে লিংকন ভাই এর বান্ধবীর সাথে কথা বলে একটু হলেও তার প্রেমে বন্ধাত্ব ঘোচাতে চাইলো।সেও যথারীতি নিজের গাট থেকে লোড করে কথা বলতে থাকে।
একদিন রাতে আমরা তিনজনই হলে থাকলাম। পালাক্রমে তিনজন প্রায় সারারাত কথা বল্লাম লিংকন ভাই এর সাথে।
ওই দিকে এক মিনিট কথা বলার আসায় গুল্লা ভাই সারারাত ফোন হাতে নিয়ে পায়চারি করেছে। কিন্তু পারে নি।
সারারাত জাগা আর কথা না বলতে পারার জ্বালা জুড়িয়ে তার তীব্র জ্বর আসে।

 প্রথম পর্বের পর।
৫ .. ৬… ৭…..৮…..এভাবে ২০-২৮ দিন হবে হয়তো

দুই বন্ধু পালাক্রমে একে অন্যকে পল্টি দিয়ে কমপক্ষে প্রায় ২০০০ টাকার মতো কথা বলেছে সাথে না চাইতেই ফ্লেক্সি করে দিয়েছে।
ইতিমধ্যে গুল্লা ভাই বাংলাদেশে থাকাতে আর এক কাঠি সরেস । সে তো দেখা করার জন্য উন্মুখ
একদিন জানতে চাইলো আমরা কি দেখা করতে পারি। পলাশ তখন কথা বলছিল। সে বললো. অবশ্যই কেন নয়।
কিন্তু বিধি বাম। গুল্লা ভাই জানতে চাইলেন আমি কিভাবে চিনবো।
পলাশ আমাকে ফোন দিল ,
আমি বললাম নীল জিন্স আর লাল টপ ওর্না থাকবে না। সাথে হাইহিল। কে এফ সির সামনে দেখা হবে
আমি জানতাম একটা মেয়ে আমাদের ঠিক পাশের বাসার এই একই পোশাকে প্রায়ই কে এফ সি তে খেতে যেত্ এক এক দিন নতুন নতুন বন্ধু থাকতো তার সাথে । অনেকটা আমার বাসার সাথে বাসা হলেও শুধু দুর থেকে দেখেছি । কিন্তু কথা বলার রুচি হয়নি । যাহোক এই সুযোগে যদি একটা কিছু হয়। যথারীতি আমরা তিনি সহোদর কে এফ সিতে হাজির।
আমরা তিনজন অনেকটা ছদ্মবেশ নিতেই কোট টাই পরে সেই সাথে রাতের বেলাতেও গ্লাস চোখে দিয়ে হাজির। আমরা দেখতে লাগলাম কি ঘটে।

যা ঘটার ঘটলো। ওই মেয়েটা যথারীতি বসে আছে তার বয়ফ্রেণ্ডের অপেক্ষাতে ।
এদিকে গুল্লা ভাইকে দেখলাম আসতে। সরাসরি কোন কথা না বলে চেয়ারটা টেনে নিয়ে বসে পড়লেন পাশে । বল কি খাবে ???
মেয়েটা অবাক হয়ে তার দিকে চাইল!!!!!!!!
এক্সকিউজ মি !!!!!!!!!
আমি ঠিক বুঝলাম না। আপনি কে?? কি বলছেন এসব
-নানা তুমি আসলেই খুব মজা করতে পারো । কাল তো কথা হলো ড্রেস তো মিলে যাচ্ছে। একটু নিচু হয়ে গুল্লা ভাই তার জিন্স আর কালো হাই হিল চেক করতে গেছেন।
কিন্তু বেচারা আর সোজা হয়ে উঠতে পারেননি। সোজা একটা থাপ্পর
যা ভাগ বেটা । ফাজলামি করার যায়গা পাস না। গুল্লা ভাই চরম রেগে মেগে অনেকটা যুদ্ধং দেহি মনোভাব দাড়াতে গিয়েও এক লাফে পিছিয়ে এলেন
এ তা আর কেউ না স্বয়ং তার কুংফূ মাস্টারের ই গার্লফ্রেণ্ড।
কোন কথা না বলে পিছনে তাকানোর চেষ্টা না করে ভো দোড় যাকে বলে তাই দিয়ে আউট।
কিন্তু বেচারার ভাগ্যটাই খারাপ। কে এফসির সামনের সিড়েঁ থেকে হোচট খেয়ে পড়ে তার গাল কেটে গেল। দরদর করে রক্ত বেরুতে লাগলো
কি আর করা। আমাদের নিজেকেই ধিক্কার দিতে ইচ্ছা করছিল। দ্রুত গুল্লা ভাইকে আমরাই ধরে ল্যাব এইডে ডাক্তার নীলু ভাই এর কাছে নিয়ে গেলাম। উনি প্রাথমিক চিকিতসা ঠিকই করলেন বললেন ‌অবস্থা গুরুতর তোমরা বরং আমার পাশের রুমে পাংশুল ভাই এর কাছে যাও। উনি কয়দিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছেলে কি নাম যেন আতেল না কি ??

টি এসসির সামনে তার প্রেমিকার কাছে হকিস্টিক রডের মার প্রচন্ড মার খায় পরকীয়া করার অপরাধে। তারপর তার চিকিতসা করেছিলেন পাংশুল ভাই। দুইদিন আইসিইউ তে পাংশুল ভাই কড়া তত্তাবধানে থাকার পর আজ সকালে তার জ্ঞান ফিরছে।
তারপর অর্ণব তুমি গতবছর ওই একটা ভাংগা দেয়ালের ইট মাথায় পড়ার পর তোমার মাথাতে যে সাত আটটা সেলাই দেয়ার লেগেছিল ওইটাও তো পাংশুল ভাই করেছিলেন । তোমরা উনার সাথে কথা বলাটাই ভাল।
আর এই বেচারার কেচ কি। আতেলের মতো কিছু নাতো
ফয়সল কিছু বলার জন্য মুখ খুলছিল ।আমি চোখ টিপলাম ও মাঝপথে ও থেমেগেল।
ওদিকে চাপাবাজ সর্দার পলাশ সুন্দর কাহিনী বানিয়ে বললো গুল্লা ভাই ভার্সিটির ক্লাস শেষে বাইকে করে ফিরছিল
হটাত একটা মাইক্রোতে ধাক্কা খেয়েছে। কিন্তু নীলূ ভাই চোখটা একটু বাকা করে বললেন
আজ না শুক্রবার আজ ক্লাস কিসের।
এটা তোমাদের তিন ইডিয়টের কত নম্বর চাঁপা
আমার দিকে মুচকি হেসে জানতে চেলেন নীলু ভাই ।
অর্ণব তুমিই এবার বল।
আমি কিছু না বলে কাশতে কাশতে বললাম ভাই পানি।
আমার আসলে কথা বলার মতো অবস্থা ছিল না। শয়তানির জের সইতে না পেরে আমার প্রচন্ত শ্বাস কষ্ট হচ্ছিল
গুল্লা ভাইয়ের দুলাভাই কে খবর দেয়া হলো

যাহোক বড় ভাই বলে কথা। এদিকে নীলু ভাই এর উদ্যোগে আমরা তিন ইডিয়ট মজা করে খাওয়া দাওয়া করলাম
এদিকে ফয়সল তার বান্ধবী সুপ্তিকে ফোন করে আসতে বললো
আসল ঘটনা এই সু্প্তিকে গুল্লা ভাই বেশ কয়েকবার ডিস্টার্ব করেছেন। ছোট ভাই এর বান্ধবী জানার পরেও তার বাদরামি বন্ধ হয়নি। তাই তাকে এমুন থেরাপি দেয়াতে সেও যার পর নাই খুশি
আমি আর পলাশ দুই ভবঘুরে একা হয়ে গেলাম
ও ভার্সিটির বাস ধরলো।
আমিও একটা বাসে উঠলাম আমার বাসার উদ্দেশ্যে।
এখন লিংকন ভাই এর কাছে আমি ফোন দিলাম আমার ফোন থেকে
ভাইয়া অর্ণব বলছি। ভাই মনটা খুব খারাপ
-কেন কি হইছে। ভাই আমাদের গুল্লা ভাই আজ মার খাইছে।

কিভাবে. লিংকন ভাই তো পুরো কাহিনী শুনে হেসেই খুন । তিনি আমাকে বললেন তো্রা তিনজন আসলে আমার আপন ভাই। তোরা যে খবর আমাকে দিলি তোদের ঋণ আমি কোনদিন শোধ করতে পারবো না

আমরা যথারীতি ওই মেয়ের ষণ্ডামার্ক বয়ফ্রেন্ডের কথা এড়িয়ে গেছি । এইবার লিংকন ভাই। ভাবছে কাহিনী আমার সুবর্না মনে হয় সত্যিই আমাকে ভালবাসে । তাই সে গুল্লাকে ওই রকম একটা শিক্ষাদিয়েছে

পরদিন রাতে কি মনে করে আমরা তিনজনই হলে।
ছাদে বসে আড্ডা দিচ্ছি। রাত সাড়ে বারোটা হবে।
ফয়সলের ফোন বাজছে ।…
আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম পরীক্ষা সামনে এই নাটকের ইতি টানতে হয়
তাছাড়া সুপ্তি ফয়সলের সাথ অনেক রাগারাগি করেছে আজ
বলেছে তোমার ফোন সারারাত বিজি থাকে কেন???
যাহোক ফাজলামির জন্য তো আর বন্ধুর ঘর ভাংগা যায় না
সবাই বলে পলাশ যত কিছু ধ্বংসের গুরু। তাই এই নাটক সেই ইতি টানলো সেই
লিংকন ভাই এর ফোন রিসিভ করার সাথে সাথে ।
হ্যালো কে তুই
বল কি চাস সুবর্ণার কাছে
শয়তান ইতর বদমাশ
মেয়েদের নম্বর পেলেই লূলামি
ও আমার বিবাহিত স্ত্রী। ওর ফোনে যদি আর একবার ফোন দিস। আমি র‌্যাবে খবর দেব

এরপর আমরা এতটাই অনুতপ্ত ছিলাম যে আমরা কোনদিন অপরাধ স্বীকার করে লিংকন ভাই বা গুল্লা ভাই এর কাছে ক্ষমা চাওয়ার সাহস করি নাই